নাসা ঘুরে এলো আশরা

জাতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাচক আকরাম খানের মেয়ে আশরা রামাইসা খান `মিশন টু মার্স` নিয়ে ৯ দিনের শিক্ষা সফরে সম্প্রতি ঘুরে এল NASA (ন্যাশনাল অ্যারোনোটিক্স অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন)  থেকে। নাসা ভ্রমণ আশরার কাছে একদিকে যেমন ছিল অ্যাডভেঞ্চারপূর্ণ, অপরদিকে এটি ছিল তার জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ও। এই ভ্রমণ আশরার চিন্তাধারায়ও বুনে দিয়েছে নতুন স্বপ্ন। সে এখন দুঃসাহসিক অভিযাত্রী হতে চায়।
চায়, বড় হয়ে পৃথিবী থেকে একদিন মঙ্গলে ছুটে যাবে চট্টগ্রামের এই মেয়ে। ঢাকার ডিপিএস এসটিএস স্কুলের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী আশরা বলে, “আমি ভীষণ লাকি যে এরকম একটি ট্যুরে যেতে পেরেছি। এই ট্যুর মহাশূন্যের ব্যাপারে আমার আগ্রহ বাড়িয়ে দিয়েছে। আমি একজন অ্যাস্ট্রোনাট হতে চাই।”  ১৯ জন শিক্ষার্থী ও ৪ জন শিক্ষকসহ এই শিক্ষা সফরে প্রথম দিন তারা গিয়ে পৌঁছে আমেরিকার ফ্লোরিডা শহরের `কেনেডি স্পেস সেন্টারে`। সেখানে পাঁচদিনের ক্যাম্পিংজীবন আশরাকে দিয়েছে নতুন অভিজ্ঞতার স্বাদ। ক্যাম্পিংয়ে সে পেয়েছে পৃথিবী থেকে মঙ্গলে ছুটে যাওয়ার প্রশিক্ষণ, শুনেছে অভিযাত্রী `স্যাম ডেনজ`র অসাধারণ অভিজ্ঞতা, মঙ্গলে যেতে দুবছর সময় পর্যন্ত দম বন্ধ করা রকেটে অভিযাত্রীরা কিভাবে সময় কাটায়, দুবছর আগে নেওয়া পচন ধরা খাদ্যসামগ্রী খেয়ে তারা কিভাবে বেঁচে থাকে, সেসব রোমাঞ্চকর গল্প। আশরা বলে, `আমি উপলদ্ধি করেছি অভিযাত্রীর জীবন কতোটা দুঃসহ হয়। ব্যক্তিগতভাবে আমি ধৈর্যশীল না। কিন্তু এই অভিজ্ঞতা আমাকে ধৈর্যশীল করতে সাহায্য করবে।`৬ষ্ঠদিনে আশরা ক্যাম্প থেকে যায় `সি ওয়ার্ল্ডে`। সেখানে সে ভীষণ ভয় পেয়েছে `মেন্টা`তে চড়ে। ৭ম দিনে যায় ডিজনি ওয়ার্ল্ডে। থ্রিলিং কিছুর সন্ধানে থাকা আশরা ৮ম দিন ইউনিভার্সেল স্টুডিওতে গিয়ে পেয়ে যায় আকর্ষণীয় ও ভীতিকর কিছু রাইডের সন্ধান। তার মধ্যে অন্যতম ছিল ৩৬০ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে এক মিনিটের `হাল্ক` রাইড চড়া। ৯ম দিনে আশরা দলের সাথে যায় ফ্লোরিডা শপিং মলে। ১০ম দিন ফিরে আসে দেশে। কিন্তু আমেরিকার বিচিত্র ও বর্ণিল অভিজ্ঞতা আশরাকে দেশে ফিরতে ভীষণ নিরুৎসাহিত করেছিল। আশরা বলে, `দেশে ফেরার ইচ্ছা মোটেও ছিল না। পরে মা-বাবা আমাকে সেদেশে পড়তে পাঠানোর কথা দিয়েছেন। তবে এই সফরে আমার অসাধারণ অভিজ্ঞতার কথা কখনই ভুলব না।`
News Pabna

নবীনতর পূর্বতন