২৬ মার্চ থ্রিজি আসছে

১৯৯০ সালে বাংলাদেশে মোবাইল ফোন প্রযুক্তির আবির্ভাব ঘটলেও ২০০০ সাল পর্যন্ত মোবাইল ফোন ছিল আভিজাত্যের প্রতীক। ২০০০ পরবর্তী সময়ে মোবাইল ফোন আমাদের কাছে সহজলভ্য ও দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে। এ প্রযুক্তির বেশ কয়েকটি জেনারেশন রয়েছে। পৃথিবীতে ১৯৮০ সালে সর্বপ্রথম ওয়্যারলেস বা তারহীন ফোন ব্যবস্থার প্রচলন ঘটে, যা ওয়ানজি বা প্রথম জেনারেশনের মোবাইল ফোন টেকনোলজি নামে পরিচিত। এটি মূলত এনালগ প্রযুক্তি। ১৯৯১ সালে টুজি বা দ্বিতীয় জেনারেশনের মোবাইল ফোন প্রযুক্তি আসে। দ্বিতীয় জেনারেশনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, এটি ডিজিটাল রেডিও সিগন্যাল ব্যবহার করে। টুজির মাধ্যমে মোবাইল ফোন থেকে ডাটা এক্সেস করা যায়, এসএমএস বা খুদে বার্তা আদান-প্রদান করা যায়। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ এখনো টুজি প্রযুক্তির মোবাইল ফোন ব্যবহার করে। টুজির পরবর্তী ভার্সন হলো থ্রিজি। থ্রিজি বা তৃতীয় প্রজন্মের মোবাইল ফোন প্রযুক্তির অনুপ্রবেশ ঘটে আইএমটি ২০০০-এর মাধ্যমে। ২০০১ সালের মে মাসে জাপানের এনটিটি ডোকোমো নামক কোম্পানি এটি নিয়ে আসে বাজারে। তাই পৃথিবীর প্রথম থ্রিজি ব্র্যান্ডের নাম ‘ফোমা’। একই বছরের অক্টোবরের প্রথম দিনে থ্রিজি বাণিজ্যিক রূপ লাভ করে। ব্রিটিশ টেলিকম পরীক্ষামূলকভাবে ২০০১ সালে ইউরোপে প্রথম থ্রিজি চালু করলেও টেলিনর ২০০১ সালের ডিসেম্বরে থ্রিজির বাণিজ্যিক ব্যবহার শুরু করে। ২০০২ সালের জানুয়ারিতে দক্ষিণ কোরিয়ায়, জুলাইতে আমেরিকায়, ফেব্রুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়ায় থ্রিজির বাণিজ্যিক প্রচলন শুরু হয়। তৃতীয় প্রজন্মের এই প্রযুক্তির মোবাইলে ইন্টারনেট, ভিডিও কল, মোবাইল টিভি ব্যবহার করা যায়। এ সিম পরিচালনার জন্য প্রতি সেকেন্ডে ২০০ কিলোবাইট ডাটা আদান-প্রদানের হার থাকতে হবে। থ্রিজির অন্যতম সুবিধা হলো ভিডিও কনফারেন্স। এই প্রযুক্তির ব্যবহার খুব দ্রুত বাড়ছে। বাংলাদেশে থ্রিজি প্রযুক্তির কার্যক্রম শুরু হবে ২০১২ সালের মধ্যে। বাংলাদেশে থ্রিজি প্রযুক্তির সুফল ভোগ করতে পারেনি। বাংলাদেশে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের অভাবে থ্রিজি আসতে পারেনি। অবশেষে ৯ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদের সভায় থ্রিজি মোবাইলের লাইসেন্স দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এক তথ্য মতে, ২০১২ সালের ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে বাংলাদেশ তৃতীয় প্রজন্মের মোবাইল ফোন প্রযুক্তিতে প্রবেশ করবে।(সূত্র: অনলাইন)
News Pabna

নবীনতর পূর্বতন