পৃষ্ঠাসমূহ

১৪ মে, ২০১৪

পেট আর কোমরের কিছু ব্যায়াম

পেট আর কোমরে চর্বি জমছে- কিছুতেই বাগে আনতে পারছেন না? যতদিন যাচ্ছে ততই বয়েস বাড়ছে - নিজেকে নির্মেদ রাখতে হিমসিম খেতে হচ্ছে? কঠিন শরীর চর্চা করেও কিছুই ফল পাচ্ছেন না কোমর ও পেট মেদহীন করতে?

মেদহীন পেট, কোমর - ভাবনাটা আমাদের প্রায় প্রত্যেকের মধ্যেই আলোড়ন তোলে। আর আজকাল বিভিন্ন ব্যায়াম ছাড়াই চর্বি তাড়ানোর নানা লোভনীয় বিজ্ঞাপনের দৌলতে আমরা ধন্ধে পড়ে যাই; বুঝে উঠতে পারিনা কি করবো। কখনও কখনও আমরা অনেকে না বুঝে, না জেনে এই সব ফাঁদে পা দি। আবার অনেক সময় সব বুঝেও এই কাজ করি। এর কারণ একটাই - প্রত্যেক মেয়ে বা ছেলে পেতে চায় সুন্দর শরীর ।


সমস্যার সমাধানের জন্য অনেকেই টাকা খরচ করেন অতিরিক্ত মেদ কমিয়ে ফেলার জন্য, কিন্তু কিছুদিন পর দেখা যায় আগে যেমন ছিলাম তেমন হয়ে গেছি।

 

এইসব সমস্যা থেকে কি রেহাই নেই? সুস্থ ও নির্মেদ থাকা? পেট মেদহীন, কোমর মেদহীন কি করেই বা পাবো?

আছে এইসবের সমাধান আর তা আপনারাই পারবেন -

ভাবছেন কি করে? পাবেন ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ, যোগাসন, জীবন যাত্রার পরিবর্তন আর সঠিক ডায়েট এর মাধ্যমে।

প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে মেলে ধরতে শরীর মেদহীন পাওয়ার উপায় নিয়মিত ব্যায়াম - আর এর জন্য সময় লাগে মাত্র ১৫-২০ মিনিট, সঙ্গে সঠিক স্বাস্থ্যকর খাবার এবং জীবন যাত্রার সামান্য কিছু পরিবর্তন।

ব্যস, আর কিছু দরকার নেই, দেখুন কত তাড়াতাড়ি কম খরচে পেয়ে যাচ্ছেন একটা নজরকাড়া শরীর।

ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ - শুরু করার আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ :

ব্যায়াম শুরু করার আগে পুরো শরীরের মেডিক্যাল চেক-আপ করিয়ে নিন। বয়স ৪০ এর বেশী হলে এটা অবশ্যই দরকার।

    ডায়েটে পরিবর্তন আনুন। অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার কম খান। সফট ড্রিংক্স বা সিন্থেটিক জুস থেকে দূরে থাকুন। নিয়মিত মদ্যপান করার অভ্যাস থাকলে পারলে ছেড়ে দিন, অন্ততঃ কমিয়ে দিন।

    কতটা ওজন ও ইঞ্চি কমাবেন তার মাপ নিয়ে শুরু করুন ব্যায়াম। ১৫ দিন অন্তর চেক করে নিন কতটা কি কমেছে।

    যতটা পারবেন বিশ্রাম করবেন। অকারণ চিন্তা করবেন না আর রাতে সঠিক ঘুম যাতে পুরো হয় তার দিকে নজর দেবেন সবার আগে।

    শুধু পেট আর কোমরের ব্যায়াম করলেই কিন্তু চলবে না। চাই পুরো শরীরের ব্যায়াম। নির্দিষ্ট কিছু ব্যায়াম আপানার পেট ও কোমরের পেশিগুলিকে শক্তিশালী, নমনীয় ও সুন্দর করবে; রোগমুক্ত থাকতে সাহায্য করবে।

ব্যস তৈরী আপনি ব্যায়াম শুরু করার জন্য।

কয়েকটি সহজ ব্যায়াম :

১) শরীরের পাশে দু হাত রেখে সোজা হয়ে দাঁড়ান। দম নিতে নিতে দু হাত মাথার উপর তুলুন। দম ছাড়তে ছাড়তে হাত দুটো শরীরের পাশে নামান। ১০ বার করুন। এটা করলে মাংস পেশী ও স্নায়ু শিথিল থাকবে।


২) পা দুটো ফাঁক করে দাঁড়ান সোজা হয়ে। দুটো হাত মাথার উপর তুলুন। দম নিয়ে সামনের দিকে ঝুঁকে হাত দুটো দু পায়ের মাঝখান দিয়ে গলিয়ে যতটা সম্ভব যাওয়ার যান। খেয়াল রাখবেন যেন হাঁটু না ভাঙ্গে। এবার দম ছাড়তে ছাড়তে দু হাত মাথার পিছনের দিকে নিয়ে যান। কোমর থেকে শরীরের উপরের অংশ বেকিয়ে যতটা যেতে পারেন যাবেন। চেষ্টা করবেন যতটা বেশী যাওয়া যায়। এইভাবে একবার নিচে একবার উপরে ১০ বার করুন। এই ব্যায়ামে মেরুদন্ড সবল হয়। অতিরিক্ত চর্বি কমে।


৩) দু পা ফাঁক করে দাঁড়ান দু হাত কোমরে রেখে। দম নিতে নিতে কোমর থেকে মাথা পর্যন্ত উপরের শরীর ডান দিকে ঘোরান। দেখবেন হাঁটু যেন না ভাজ হয় আর পায়ের পাতা যেন এক অবস্থায় থাকে। এবার দম দিয়ে বাঁ দিকে ঘুরুন। আবার দম ছাড়তে ছাড়তে আগের অবস্থায় ফেরত যান এইভাবে প্রতিদিন ৫বার করে দু দিকে ১০বার অভ্যাস করুন। এতে কোমরের পেশীগুলি সচল ও তাজা হবে।


ভুজঙ্গাসন - উপুর হয়ে শুয়ে পড়ুন। এবার কুনুই থেকে ভাজঁ করে দুটো হাতকেই কাধেঁর সোজাসুজি মাটিতে বুকের দুপাশে রাখুন। হাতের তালু যেন সোজা থাকে। এবার নাভি থেকে দেহের উপরের অংশ হাতের তালুর উপর ভর দিয়ে তুলুন। পা দুটো পুরো সোজা করে জোড়া করে পেতে রাখুন। ঘাড় একটু বেঁকিয়ে গলা তুলে উপরের দিকে তাকান। ১০ সেকেন্ড রেখে আগের অবস্থায় ফিরে যান। ৫-৬ বার অভ্যাস করুন। আর যখন মাথা তুলবেন তখন শ্বাস নিয়ে তুলবেন আর যখন নামবেন শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে নামবেন।


ত্রিকোণাসন - দু পা ফাঁক করে সোজা হয়ে দাঁড়ান। এবার দু হাত সোজা করে কাধেঁর সামনে রাখুন। কোমর থেকে শরীরের উপরের অংশ ডান দিকে বেকিয়ে ডান হাত দিয়ে ডান পায়ের পাতা স্পর্শ করুন আর বাঁ হাত কাধেঁর সোজাই রাখবেন আর তাকাবেন বাঁ হাতের দিকে। এইভাবে ১০ সেকেন্ড থেকে আগের অবস্থায় ফিরে যান। হাত নামিয়ে শরীরের পাশে রাখুন। একই ভাবে বিপরিত দিকে করুন। প্রতিদিন ৩বার করে করবেন। তার পরপর ১ মিনিট শবাসনে বিশ্রাম।

উপকারিতা - এই আসন অভ্যাস করলে মেরুদন্ডে রক্ত চলাচল বাড়ে তাতে মেরুদন্ড নমনীয় হয়। শরীরের দুপাশে অতিরিক্ত মেদ কমাতে সাহায্য করে।

অর্ধচন্দ্রাসন - দু পা জোড়া করে সোজা হয়ে দাঁড়ান। হাত দুটো সামনের দিকে সোজা করুন। এবার শরীরের উপরের অংশ হাতসহ পিছনের দিকে বাঁকান। হাত দুটো যেন মাথা ও কানের পাশে থাকে। যতক্ষণ সম্ভব এই অবস্থায় থেকে আগের অবস্থায় ফিরে আসুন। ৩বার করবেন ১মিনিট শবাসনে বিশ্রাম নেবেন।


অর্ধশলভাসন - এক পায়ে করা হয় বলে এই আসনকে অর্ধশলভাসন বলে। মাটিতে মুখ নিচু করে উপর হয়ে শুয়ে পড়ুন। হাত দুটো থাই-এর তলায় রাখুন। এবার শরীরটা টান রেখে যেকোন একটা পা পিছনের দিকে তুলুন খেয়াল রাখবেন হাঁটু যেন না ভাঙ্গে। এই অবস্থায় ২০ সেকেন্ড রেখে পা নামান। এবার অন্য পায়ে ঠিক একই ভাবে করুন। ৫বার করে অভ্যাস করুন।

উপকারিতা - তলপেট ও নিতম্বের পেশীগুলি মজবুত হয়। নিতম্বের গড়ন সুন্দর করে।

পবন মুক্তাসন - চিৎ হয়ে শবাসনে শুয়ে পড়ুন। প্রথমে ডান পা হাঁটু ভাজঁ করে বুকের কাছে এনে দু হাত দিয়ে হাঁটু বুকের উপর চেপে ধরুন। পায়ের পাতা দুটোই বাইরের দিকে রাখবেন। ২০ সেকেন্ড রেখে পা সোজা করে দিন। এবার বাঁ পায়ে একই ভাবে করুন। ২০ সেকেন্ড রেখে পা সোজা করে বিশ্রাম করুন। এইবার দুটো পা একসঙ্গে একই পদ্ধতিতে করুন ২০ সেকেন্ড ধরে। ১মিনিট শবাসনে বিশ্রাম নিন। প্রতিদিন ৫বার করে করবেন এই আসন।

উপকারিতা - পেটের পেশীকে সবল করে। শরীরের মাঝের অংশ নমনীয় করে তোলে।

জীবনযাত্রার পরিবর্তন -

    অফিসে থাকাকালীন এমন কছু অভ্যাস করে তুলুন যাতে দ্রুত ওজন ঝরাতে সাহায্য করে। সিড়িঁ দিয়ে ওঠানামা করুন। কাজের ফাঁকে পায়ের কিছু ব্যায়াম বসে বসে বা দাঁড়িয়ে করুন। লাঞ্চে বাইরের খাবার ও জাঙ্কফুড সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলুন।

    ওজন কমাতে ও সুস্থ থাকার জন্য সিগারেট ও মদ্যপান এড়িয়ে চলুন। বেশ কিছু মদ বা সিগারেট সরাসরি ওজন বাড়ানোর জন্য দায়ী নয় কিন্তু শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ না থাকলে ওজন কমানোর কাজ আরও কঠিন হবে। সেজন্য ওজন কমানোর ফিটনেস চিন্তাধারা করার সঙ্গে সঙ্গে সু অভ্যাস তৈরী করে ফেলুন।

    ব্যস্ততম জীবনে অফিসে এক জায়গায় বসে ঘন্টার পর ঘন্টা কাজ করেন যারা তাদের কোন শারীরিক পরিশ্রম হয় না। অনেকেই এই মানসিক চাপ থেকে বেরিয়ে আসাতে অতিরিক্ত খাবার খেয়ে ফেলেন। অফিসের কাজের ফাঁকে ২ঘন্টা অন্তর ৫মিনিট হেঁটে নিন দেখবেন ভালো লাগবে।

    বাড়িতে থাকেন যারা অনেক সময়েই তাদের ওজন বাড়ে খুব তাড়াতাড়ি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মেদ ঝরিয়ে সুন্দর হয়ে ওঠার জন্য প্রতিদিন শারীরিক পরিশ্রম করুন। বাড়ির কাজের জন্য মেসিন কম ব্যবহার করুন। তার বদলে নিজে একটু কষ্ট করে এই কাজ গুলো করলে উপকার পাবেন। বাচ্চাদের স্কুলে ছাড়তে ও আনতে যান হেঁটে, এতে ওজন কমানোর পক্ষে সহায়ক হবে। সপ্তাহে ৪দিন ব্যায়াম করুন ও ডায়েট চার্ট মেনে চলুন দেখবেন খুব তাড়াতাড়ি মেদহীন শরীর পাবেন।