৩০ ডিসেম্বর, ২০১০

২০১০ সালে আলোচিত ১০ ব্যক্তিত্ব

বছরজুড়ে বিশ্বব্যাপী তাদের প্রভাব, বিশ্ব গণমাধ্যমে তাদের নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ভিত্তিতে  এ ব্যক্তিত্বেদের নিয়ে একটি প্রতিবেদন । ২০১০ সালের সবচেয়ে আলোচিত সেরা ১০ ব্যক্তিত্বের তালিকা উল্লেখ করা হলো।    

অং সান সু চি: ১৩ নভেম্বর মুক্তি পান মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চি। আর এর মধ্য দিয়ে শেষ হয় সুচি'র  ১৫ বছরের গৃহবন্দিত্বের। নানা অজুহাতে বার বারই সু চিকে গৃহবন্দী করে রাখে দেশটির জান্তা সরকার। কিন্তু তারপরও কখনোই নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেনি সু চি। এমনকি মিয়ানমারে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য নিজের পারিবারিক জীবনও বিসর্জন দেন তিনি।

জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ: বিশ্বের সেরা হ্যাকিং প্রতিষ্ঠান উইকিলিকস ওয়েবসাইটের প্রতিষ্ঠাতা ও এডিটর-ইন-চিফ অস্ট্রেলীয় নাগরিক জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ সম্প্রতি ইরাক ও আফগানিস্তানের যুদ্ধসহ পরারষ্ট্র বিষয়ক আড়াই লাখ গোপন মার্কিন দলিল ফাঁস করে দিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন।
মার্ক জুকারবার্গ: ফেসবুক প্রতিষ্ঠা করে বিখ্যাত হয়েছেন মার্কিন কম্পিউটার বিজ্ঞানী, সফটওয়্যার নির্মাতা মার্ক ইলিয়ট জুকারবার্গ। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অবস্থায় ২০০৪ সালে সহপাঠী ডাস্টিন মস্কোভিটজ, এডওয়ার্ড স্যাভেরিন এবং ক্রিস হাগের সঙ্গে যৌথভাবে ফেসবুক প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। ২০১০ সালে টাইম ম্যাগাজিনের ‘পারসন অব দ্য ইয়ার' নির্বাচিত হয়েছেন জুকারবার্গ।
দিলমা রউসেফ:  ব্রাজিলের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট দিলমা রউসেফ ১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৫৫ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন তিনি। ২০১১ সালের প্রথম দিন তিনি রাষ্ট্রের ক্ষমতা গ্রহণ করবেন।
ডেভিড ক্যামেরন: লেবার দলের ১৩ বছরের প্রশাসনকে হারিয়ে গত ১১ মে ক্ষমতায় আসেন যুক্তরাজ্যের করজারভেটিভ দলের প্রধান ডেভিড ক্যামেরন। যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে ৪৩ বছর বয়সী ক্যামেরনই সবচেয়ে কম বয়সী প্রধানমন্ত্রী। নতুন এ প্রধানমন্ত্রী এবার বিরোধী লিবারেল ডেমোক্রেটদের সঙ্গে জোট সরকার গঠন করেন।
দিমিত্রি মেদভেদেভ: রাশিয়ার প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ১ নভেম্বর কুরিল দ্বীপ পরিদর্শন করেন দিমিত্রি মেদভেদেভ। কয়েক দশক ধরে টোকিওর সঙ্গে বিরোধপূর্ণ প্রত্যন্ত এ ভূখন্ড মেদভেদেভের সফর রাশিয়ার সার্বভৌমত্বের দাবিকেই জোরালো করেছে। ৪২ বছর বয়সী মেদভেদেভ রাশিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী প্রেসিডেন্ট।
জুলিয়া এইলিন গিলার্ড: কেভিন রাড তার দলের সমর্থন হারিয়ে ২৪ জুন ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ান। তখন অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় নেতা এবং পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী হন লেবার দলের জুলিয়া গিলার্ড। এর মধ্য দিয়ে তিনিই হন দেশটির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। ১৯৬১ সালে যুক্তরাজ্যের ওয়েলসে জন্মগ্রহণ করা গিলার্ড তার পরিবারের সঙ্গে ১৯৬৬ সালে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান।
লেখ কাকজিনস্কি: রাশিয়ার স্মোলেস্কে ব্যক্তিগত বিমান বিধ্বস্ত হয়ে পোল্যান্ডের সাবেক প্রেসিডেন্ট কাকজিনস্কি, তার স্ত্রী ও দেশটির সরকারী কর্মকর্তাসহ মোট ৯৫ জন নিহত হন। কাতিন হত্যাকান্ডের শিকার ব্যক্তিদের ৭০তম বার্ষিকী পালনের উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় এ দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি।
স্ট্যানলি অ্যালেন ম্যাকক্রিস্টাল: রোলিংস্টোন ম্যগাজিনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রশাসনের আফগাননীতি বিষয়ে খোলামেলা সমালোচনা করে আলোচনায় আসেন ন্যাটো বাহিনীর সাবেক কমান্ডার ম্যাকক্রিস্টাল। এ ঘটনার পর পরই তাকে ওয়াশিংটনে জরুরি তলব করা হয় এবং ২৩ জুলাই তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন ওবামা। এর কিছুদিন পরই আফগানিস্তানের দায়িত্ব থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হলে অবসরে যাওয়ার ঘোষণা দেন এ চার তারকাখচিত জেনারেল।
স্টিভেন পল জবস: স্টিভ জবস অ্যাপেলের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন এবং একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী। ফোর্বেসের হিসাব অনুযায়ী ২০০৯ সালে তার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিলো ৫শ ১০ কোটি ডলার যা তাকে বিশ্বের ৪৩তম ধনী ব্যক্তিতে পরিণত করে। (সূত্র: অনলাইন)