 |
| সাইবেরিয়ার তাঙ্গুসকার বিস্ফোরণ ছিল ১০ হাজার কিলোমিটার দূর থেকেও স্পষ্ট |
মানুষের বাসযোগ্য এ পৃথিবী পরিবর্তিত হচ্ছে আমাদের অগোচরে। বস্তুজগৎ এর পরিবর্তন হচ্ছে অতি ধীরে। আপাতত মারাত্মক কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয় ছাড়াই আমরা মানুষেরা সম্পূর্ণ একটি জীবনকে পরিচালনা করতে পারি। কিন্তু লক্ষ কোটি বছরের ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অঞ্চল ও গ্রহজগৎ ধ্বংস হয়ে গেছে। অন্যান্য গ্রহের ভূ-প্রকৃতির ওপর অতীতে যেসব রেকর্ড সংরক্ষিত আছে, সেখানে অতিমারাত্মক বিপর্যয়গুলোর প্রচুর সাক্ষ্য-প্রমাণ আছে। তবে কিছু ঘটনা আছে যা শত শত বছরের মধ্যে ঘটেনি, লক্ষ্য করলে দেখা যাবে তা লাখ বছরের মধ্যে হয়তো সংঘটিত হয়েছে। গেল শতাব্দীতে পৃথিবীতে এরকম মারাত্মক কিছু প্রাকৃতিক বিপর্যয় সংঘটিত হয়েছে। ১৯০৮ সালের ৩০ জুন। খুব সকালে কেন্দ্রীয় সাইবেরিয়ার তাঙ্গুসকায় বিশালকায় একটি আগুনের গোলক আকাশ বরাবর ধেয়ে আসতে থাকে এবং দিগন্ত স্পর্শের সঙ্গেই ব্যাপক বিস্ফোরণ ছড়িয়ে পড়ে। ২০০০ বর্গকিলোমিটার বনব্যাপী এর বিস্তার ছিল। সংঘর্ষের কাছাকাছি আকস্মিক আগুনে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে দিয়েছিল হাজার হাজার গাছসহ বনাঞ্চলকে। এটা আবহমণ্ডলে এমন শকওয়েভ তৈরি করে যা পৃথিবীকে দু'বার চক্কর দিয়ে এসেছিল। দু'দিন ধরে, আবহমণ্ডলে এত পরিমাণ সূক্ষ্ম ধূলিকণা ছিল যে রাতে তার বিক্ষিপ্ত আলো দ্বারা লন্ডনের রাস্তায় যে কেউ নিউজ পেপার পড়তে পারত। প্রায় ১০,০০০ কিলোমিটার দূর থেকেও তা ছিল স্পষ্ট। ঘটনাটি তাঙ্গুসকা ইভেন্ট বা তাঙ্গুসকা বিস্ফোরণ হিসেবে পরিচিত। এ নিয়ে রুশ বিপ্লবের দশ বছর পর একটি অনুসন্ধানী গবেষক দল গঠন করে। তারা বলেন, ১৯০৮ সালে ধূমকেতুর টুকরো পৃথিবীকে আঘাত করলেই এই ভয়াবহ সংঘর্ষটি ঘটে। ইতিহাস বলে, এ ধরনের সংঘর্ষ শতাব্দীতে একবার ঘটার সম্ভাবনা প্রবল। (সূত্র: অনলাইন)