ডাইনি মেয়ের কথা!

নেপালের ছোট্ট মেয়ে বাহাওয়ানা থামিকে গ্রামের লোকেরা বলতো ডাইনি। তার মুখের একপাশ ছিলো ঘন লোমে আবৃত। আর এ কারণেই সবাই তাকে ডাইনি বলতো। এমনকি তাকে কেউ খেলায় নিতো না। এখানেই শেষ নয়। গ্রামের লোকেরা পিশাচিনীর পরিবার বলে তাদের একঘরে করে দেয়।

কিন্তু এতে  তার কোনই দোষ ছিলো না। তার মুখমন্ডল লোমে আবৃত থাকা আসলে এক ধরণের বিরল রোগ।  জন্মগতভাবে সে এই রোগে আক্রান্ত হয়। দীর্ঘদিন ধরে এ রোগের চিকিৎসা না হলে এটি ক্যান্সারে রূপ নিতে পারে।

তার বাবা কালুমান তাকে কখনও আয়না দেখতে দিতেন না। কিন্তু একদিন এক সাংবাদিক তার ছবি তোলে এবং ছবিটি সে আট বছরের বাহাওয়ানাকে দেখতে দেন। ছবিতে নিজেকে দেখার পর আতঙ্কিত হয়ে পড়ে সে।


কিন্তু বাহাওয়ানার প্লাস্টিক সার্জারি শুরু হওয়ার পর তার বাবা এখন মেয়ের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে।

নেপালের সেবা সংস্থা চাইল্ড ওয়ার্কার্সের অর্থায়ানে গত বছর  কাঠমান্ডুতে তার প্রথম অপারেশন অনুষ্ঠিত হয়। পরের বছর নয় বছর বয়সে দ্বিতীয় অপারেশনের মাধ্যমে তার মুখের লোম সম্পূর্ণভাবে দূর করা হয়। যখন তার বয়স চৌদ্দ হবে তখন তৃতীয়বারের মতো অপারেশন করা হবে।

ইতিমধ্যে সে গ্রামে ফিরে গেছে। এখন তাকে সমবয়সী শিশুদের সঙ্গে খেলতে দেখা যায়।

অপারেশনের পর থেকে বাহাওয়ানার আচরণও বদলে যেতে শুরু করেছে। এখন আর নিজের চেহারা নিয়ে ভীত নয় বাহাওয়ানা। সে এখন স্কুলেও যেতে শুরু করেছে। শেষ পর্যসন্ত গ্রামবাসীরা বাহাওয়ানা ও তার পরিবারকে মেনে নিয়েছে।
News Pabna

নবীনতর পূর্বতন