ভারতের
পুনে জেলার পিমপ্রি-চিনচওয়াদ শহরের ধনাঢ্য ব্যবসায়ী দত্ত ফুগে (৩২)
বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান স্বর্ণের শার্ট কিনে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। তিন
কেজিরও বেশি স্বর্ণ দিয়ে তৈরি তার শার্টটির মূল্য আড়াই লাখ মার্কিন ডলার।
স্বর্ণ দিয়ে নির্মিত শার্ট গায়ে দেওয়ার পর পরই দত্ত ফুগে ‘স্বর্ণ পুরুষ’ উপাধি পেয়েছেন। শুধু শার্ট কেন? তার গলায় রয়েছে কয়েক গাছি সোনার শিকল আর দুই হাতে রয়েছে সোনার পুরু ব্রেসলেট এবং কোমরে কোমরবন্ধ।
শার্টের ব্যাপারে
দত্তে সরল স্বীকারোক্তি, বলেন, ‘কেউ কেউ জানতে চায় আমি কেন আমি এই শার্ট
পড়ছি। আসলে এক এক জনের একেক ধরনের শখ থাকে। স্বর্ণের জিনিস পড়া আমার শখ।’
দত্ত তার মহামূল্যবান এই শার্টটি বিশেষ বিশেষ অনুষ্ঠানে পড়েন। তিন কেজি তিন
গ্রাম ওজনের স্বর্ণের এই শার্টটি ১৬ জন লোক ১৫ দিন পরিশ্রম করে তৈরি
করেছেন।স্বর্ণ দিয়ে নির্মিত শার্ট গায়ে দেওয়ার পর পরই দত্ত ফুগে ‘স্বর্ণ পুরুষ’ উপাধি পেয়েছেন। শুধু শার্ট কেন? তার গলায় রয়েছে কয়েক গাছি সোনার শিকল আর দুই হাতে রয়েছে সোনার পুরু ব্রেসলেট এবং কোমরে কোমরবন্ধ।
পুনের তেজপাল জুয়েলার্সের মালিক তেজপাল রানকার নতুন এই শার্ট ডিজাইন করেছেন। তিনি ভারতের পুরনো দিনের রাজাদের পরিহিত বর্ম থেকে এই শার্ট তৈরিতে উৎসাহিত হন। রানকার ও তার সাকরেদরা ইতালি সুতোর ওপর সোনা দিয়ে একটি বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে শার্টটি তৈরি করেন।
তবে এটি খুব সাবধানে ব্যবহার করতে হবে বলে জানিয়েছেন তারা। কেননা এটি ধোয়া যাবে না। এমনকি এতে ঘামও লাগানো যাবে না। ফলে গ্রীষ্ম প্রধান আবহাওয়ার দেশ ভারতে এ ধরনের পোষাক কতটা উপযোগী সে প্রশ্ন থেকেই যায়।
শার্টটি গায়ে দিলে দত্তের ভেতর একটা রাজকীয় ভাব আসে। আর এটি নিয়ে কোনো রকম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হয়না তাকে। কেননা তিনি কোথায় ঘুরতে গেলে তার নিরাপত্তা কর্মীরা থাকেন।
দত্ত ছোটবেলা থেকেই স্বর্ণের গহনা পড়েন। সবসময়ই ১০ থেকে ১৫ কেজি স্বর্ণ পড়েন তিনি। স্বর্ণের শার্ট ছাড়াও তার রয়েছে স্বর্ণের মোবাইল ফোন, নানা রকম স্বর্ণালঙ্কার এবং এক জোড়া স্বর্ণের জুতা।
পুনের পিমপ্রি চিনচাওয়াদ এলাকার বাসিন্দা ফুগে একজন সুদ ব্যাবসায়ী। প্রতি ছয় মাস অন্তর তার কোম্পানি যখন মুনাফা পায় তখন তিনি স্বর্ণের জিনিস কেনেন।
কেউ কেউ বলছেন, নারীদের আকৃষ্ট করতেই দত্ত এই শার্ট কিনেছেন। কিন্তু তিনি বিবাহিত এবং স্ত্রী সীমাকে নিয়ে তার সুখের সংসার। দত্ত গর্ব করে বলেন, ‘আমার স্ত্রীর পাঁচশ কেজি স্বর্ণ আছে। আমি তাকে সোনার নেকলেস আর ব্যাগ কিনে দিয়েছি।’
শুধু দত্ত নয় ভারতের অধিকাংশ মানুষেরই স্বর্ণের প্রতি আকর্ষন রয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি স্বর্ণের ক্রেতা ভারতীয়রা।
ভারতের স্বর্ণ বিষয়ক বিশেষজ্ঞ রাজিব মেহতা বলেন, ভারতের সবাই স্বর্ণ কিনে থাকেন। এখানে স্বর্ণ থাকাকে সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।
হিন্দু দেবী লক্ষীর সৌভাগ্যের প্রতীক স্বর্ণ। হিন্দুদের মন্দিরগুলোতে দেব দেবীদের স্বর্ণের গহনা দিয়ে সাজানো হয়ে থাকে। তাদের বিয়েতেও প্রচুর স্বর্ণ উপঢৌকন হিসেবে দেওয়া হয়। মেহতার মতে, ভারতে ১৮ হাজার টন স্বর্ণ রয়েছে যার এক তৃতীয়াংশই গ্রাম এলাকায় রয়েছে। ভারতের লাখ লাখ মানুষ ব্যাঙ্ক একাউন্টের বিকল্প হিসেবে স্বর্ণ জমা করে থাকে।
