এরশাদের সামরিক শাসন অবৈধ ঘোষণা করে সপ্তম সংশোধনী বিষয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। এর মাধ্যমে ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ থেকে ১৯৮৬ সালের ১১ নভেম্বর পযন্ত জেনারেল এরশাদের সামরিক শাসনামল পুরোপুরি অবৈধ ঘোষণা করলো দেশের সর্বোচ্চ আদালত। প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের নেতৃত্বাধীন ৬ সদস্যের বেঞ্চ রোববার সকালে এ রায় দেন। এতে বলা হয়েছে উল্লেখিত সময়ে জারি করা সকল সামরিক ফরমান অবৈধ। তবে এ সময়ে জনহিতকর, কল্যাণকর এবং আন্তর্জাতিক যেসব চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে সেগুলোকে মার্জনা করা হয়েছে। এছাড়াও আদালত আপিলকারী সিদ্দিক আহমেদের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন। তবে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রচলিত আইনে চলবে। রায়ে এই মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া র্পযন্ত তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে। রায়ের পর আপিলকারীর আইনজীবী ব্যারিস্টার হাসান এম এস আজিম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজকের এ রায় ঐতিহাসিক। এর মাধ্যমে সংবিধান থেকে সামরিক শাসনের ইতিহাস মুছে গেলো এবং ভবিষ্যতে দেশে সামরিক শাসন আসার পথ রুদ্ধ হলো।’ এর আগে গত ১০ মে মঙ্গলবার শুনানি শেষে আপিল বিভাগ এ আপিলটি শুনানির জন্য অপেক্ষমান রাখেন। ওইদিন আপিলকারীর পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী সৈয়দ আমিরুল ইসলাম এবং রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা শুনানিতে অংশ নেন। এ রায়ের ফলে এরশাদের শাস্তি হবে কি-না, এমন প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘অবৈধ ক্ষমতা দখলের প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন জিয়াউর রহমান। এরশাদ তারই ধারাবাহিকতা রক্ষা করেছেন। হাইকোর্ট বিভাগ তার রায়ে এরশাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব পার্লামেন্টের ওপর অর্পণ করেছিলেন। তবে আজকে আপিল বিভাগ তার রায়ে ঠিক কী বলেছেন তা পূর্ণাঙ্গ রায় না দেখে বলা যাবে না।‘ তিনি আরও বলেন, তবে আজকের এ রায় একটা বিষয়ে দরোজা খুলে দিয়েছে তাহলো এরশাদের সামরিক শাসনামলে যারা বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন তারা এ রায়ের সুযোগ নিতে পারবেন।’ সেক্ষেত্রে গণহারে তারা আদালতে হাজির হবেন কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তারা আসলে আসুক। কিন্তু আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। তাদের সাজা বাতিল হলেও বিচার বাতিল হবে না। তাদের নিম্ন আদালতে পুনরায় বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।’ আদালতের যেসব রায়ের মাধ্যমে সামরিক শাসনকে পরোক্ষভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, সেসব রায়ের ভবিষ্যৎ কী হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে মাহবুবে আলম বলেন, ‘আশা করছি আপিল বিভাগ এসব রায়কে পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) করবেন।’ অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে আদালতে মতামত দেন সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম, ব্যারিস্টার রফিক-উল হক ও মাহমুদুল ইসলাম। গত বছরের ২৬ আগস্ট হাইকোর্ট এরশাদের সামরিক শাসনকে বৈধতাদানকারী সংবিধানের সপ্তম সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করেন। কিন্তু সামরিক আদালতের দেওয়া সাজার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিটকারী সিদ্দিক আহমেদ সে রায়ে কোনও প্রতিকার পাননি। তিনি গত ৭ এপ্রিল চট্টগ্রামের আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তিনি তার সাজা বাতিলের আবেদন জানিয়ে গত ১১ এপ্রিল এ আপিলটি দায়ের করেন। এ প্রসঙ্গে রায়ের পর ব্যারিস্টার হাসান আজিম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা সিদ্দিক আহমেদের সাজা বাতিলের আপিল করেছিলাম। আদালত তা মঞ্জুর করেছেন।’ (সূত্র: বাংলা নিউজ টুইন্টিফোর ডটকম) লিংক: http://www.banglanews24.com/detailsnews.php?nssl=424ea4fb01d426ad5231b50dfd69d46a&nttl=2011051540280&toppos=1
