বিশ্ব শান্তি কামনায় শেষ হলো বগুড়া মহাস্থান গড়ে অবস্থিত হযরত শাহ সুলতান বলখী (রঃ) এর বাৎসরিক ওরশ শরীফ। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও অনুষ্ঠিত হলো বৈশাখের শেষ বৃহঃপতিবারের বাৎসরিক এই ওরশ। দেশের এবং দেশের বাইরের বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন ধর্মের অনুসারীদের আগমনে মুখরিত হয়েছিলো মহাস্থানগড়ের শাহ সুলাতান দরবার শরীফ। ওরশে অসংখ্য মুসলমান, হিন্দু, সাধু, ফকির, সন্যাসী ও ভক্তবৃন্দরা ছুটে এসেছিলেন দুর-দুরান্ত থেকে। মুসলীম উম্মার একটি বড় অংশ শুক্রবারের জুমার নামাজ আদায় করেছেন বলখীর মাজারে। মাজারের চার পাশে অসংখ্য ছোট বড় কাফেলা জিকির-আসকার ও গান বাজনা করেছে সারা রাত। মহাস্থান গড়ের প্রাচীন নাম ছিল বরেন্দ্র বা পুন্ড্র নগর। এক সময় মৌত, গুপ্ত, পাল ও সেন রাজাদের রাজধানী ছিল এই পুন্ড্র নগর। রাজা লন সেন যখন গৌড়ে রাজত্ব করতেন তখন মহাস্থান গড় ছিল অরতি। কিংবদন্তী মতে তখন এখানে রাজত্ব করতেন রাজা নল (১০৮২-১১২৫)। রাজা নলের অনুজ ভ্রাতার নাম ছিল নীল। তিনি ছিলেন রাজ্যের প্রধান উজির বা মন্ত্রী। এক অভিশপ্ত ব্রান মহাস্থান গড়ে আগমন করেন। মাতৃ হত্যার অভিশপ্ত মন নিয়ে পাপের প্রায়শ্চিত করার জন্য প্রথমে এই দূর্গের প্রধান পুরোহিত হওয়ার সুযোগ পান তিনি। নল ও নীল ভৃাতদ্বয়ের বিরোধ মীমাংসা কল্পে অভিভাবকত্ব গ্রহন করেন। অভিশপ্ত ব্রানের নাম ছিল রাম। এক সময় নল ও নীল এর সাথে প্রতারনা করে তিনি মহাস্থানগড়ের রাজা হন। এই রামই পশুরাম হিসাবে পরিচিত। আফগানিস্তানের অন্তর্বতী প্রদেশের পরাক্রান্ত রাজা হযরত শাহ সুলতান মাহমুদ বলখী (রঃ) তার মুর্শিদের নির্দেশে ইসলাম প্রচার করার জন্য মহাস্থানগড় আসেন। এবং পশুরামের সঙ্গেই হযরত শাহ সুলতান মাহমুদ বখলী (রঃ) এর যুদ্ধ হয়, যুদ্ধে পশুরাম পরাজিত হয়। এর পর থেকে মহাস্থানগড়ে শাহ সুলতান তাঁর ধর্ম প্রচার ্ও আধ্যাত্মিকতার প্রচার প্রসার ঘটাতে থাকেন।
(ফকির মানিক, বিসিক, রংপুর)
