৯ জানুয়ারি, ২০১১
বন্ধ হয়নি বিচার বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড
শনিবার সকালে মানবাধিকার সংস্থা 'অধিকার' জাতীয় প্রেসকাবে মানবাধিকার প্রতিবেদন ২০১০ উপস্থাপন করে। সে সময় তারা ২০১০ সালে ১২৭ জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলে তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করে। এবং একই সময়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে থাকাবস্থায় প্রাণ হারিয়েছেন ১১০ জন। আর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গুম হয়েছেন ১৬ জন। অধিকার-এর দাবি অনুযায়ী প্রতি ৩ দিনে গড়ে ১ জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। রিপোর্টে বলা হয়, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধে সরকার বারবার প্রতিশ্রুতি দিলেও ২০১০ সাল জুড়েই তা অব্যাহত ছিল। আইন শৃঙ্খলা রাকারী বাহিনী আইন ভঙ্গ করে সন্দেহভাজন ব্যক্তি, বিপ্লবী বামপন্থী এবং নিরীহ ব্যক্তিদেরকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করেছে। অধিকার-এর তথ্যানুযায়ী বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার ১২৭ জনের মধ্যে তথাকথিত ক্রসফায়ার-এ ১০১ জন, নির্যাতনে ২২ জন, গুলিতে ২ জন এবং ২ জনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এদের মধ্যে র্যাবের হাতে ৬৮ জন, পুলিশের হাতে ৪৩ জন, র্যাব-পুলিশের যৌথ অভিযানে ৯ জন, র্যাব-কোস্টগার্ডের যৌথ অভিযানে ৩ জন, র্যাব পুলিশ-কোস্টগার্ডের যৌথ অভিযানে ৩ এবং বিডিআর এর হাতে ১ জন নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়, ২০১০ সালে ১১০ জন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হেফাজতে মারা গেছেন। এদের মধ্যে ৬ জন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হেফাজতে থাকাকালীন সময়ে ক্রসফায়ারে, ২২ জন নির্যাতনে এবং ১ জন গুলিতে মারা গেছেন। এছাড়া এই সময়ে ৬০ জন ব্যাক্তি জেল হেফাজতে 'অসুস্থতাজনিত' কারণে মারা গেছেন। বিডিআর বিদ্রোহের অভিযোগে আটক ১৫ জন বিডিআর সদস্য জেল ও অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হেফাজতে মারা গেছেন বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়। ২০১০ সালে ১৬ জন ব্যক্তি গুম হয়েছেন উল্লেখ করে রিপোর্টে বলা হয়, পরিবারগুলোর অভিযোগ উল্লিখিত ব্যক্তিদের সাদা পোশাকধারী আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা র্যাব ও পুলিশের পরিচয় দিয়ে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। (সূত্র: অনলাইন)
