গণবিক্ষোভের মুখে অবশেষে পদত্যাগ করেছেন মিসরের প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক। শুক্রবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে মোবারকের পক্ষে নবনিযুক্ত ভাইস প্রেসিডেন্ট ওমর সোলাইমান এ ঘোষণা দেন। আলজাজিরা জানিয়েছে, মোবারক মিসরের নবনিযুক্ত ভাইস প্রেসিডেন্ট ওমর সোলাইমানের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেছেন। মিসরের সেনাবাহিনীর সুপ্রিম কমান্ড কাউন্সিল ক্ষমতা গ্রহণ করেছে। এর আগে মোবারক সপরিবারে কয়রো ত্যাগ করেন। কায়রোর অদূরে এক সামরিক বিমানঘাঁটি থেকে তিনি শার্ম-আল-শেখ এ চলে যান। মোবারকের পদত্যাগের খবরে নীল নদের দেশ মিসরের রাস্তাঘাট জনতার উল্লাসে মুখরিত। মিসরে হোসনি মোবারকের ৩০ বছরের স্বৈরশাসনের অবসানে দেশ জুড়ে চলছে আনন্দ মিছিল। লাখো জনতা রাজধানীর কায়রোর তাহরীর স্কয়ারসহ দেশের বিভিন্ন শহরে উল্লাস প্রকাশ করছে। প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ, পার্লামেন্ট ভবন, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় অবস্থান নিয়েছে সেনা সদস্যরা। সুপ্রিম আর্মড ফোর্সেস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ভাষণে মোবারক আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। তার এ ঘোষণায় আবারো মিসর জুড়ে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিরোধীরা তার এ ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, মোবারক ক্ষমতা না ছাড়া পর্যন্ত রাজপথে আন্দোলন চলবে। তারা শুক্রবার রাজধানীর কায়রোর তাহরীর স্কয়ারসহ দেশের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভের ঘোষণা দেয়। গত ২৫ জানুয়ারি হোসনি মুবারকের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়। এক পর্যায়ে সরকার বিরোধী আন্দোলনে যোগ দেন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সাবেক প্রধান আল বারাদি। দিনে দিনে আরো বেগবান হয় ওই আন্দোলন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপীয় দেশগুলো মিসরের প্রেসিডেন্টকে পদত্যাগে চাপ সৃষ্টি করে। (সূত্র: শীর্ষ নিউজ ডটকম)
