১৭ অক্টোবর, ২০১০

মারিও বার্গাস য়োসা’র সাক্ষাৎকার

ছাগলের উৎসব বইটির প্রচ্ছদ


(২০১০ সালের নোবেল সাহিত্য পুরষ্কার পেলেন পেরুর ঔপন্যাসিক মারিও বার্গাস য়োসা।  সাহিত্য চর্চার পাশাপাশি রাজনীতিবিদ হিসেবেও প্রতিষ্ঠা পেতে চেয়েছিলেন তিনি। পেরুর প্রেসিডেন্ট প্রার্থীও হয়েছিলেন ১৯৯০ সালে এই সাহিত্যিক। যদিও  আলবার্তো ফুজিমোরি’র কাছে তিনি পরাজিত হয়েছিলেন। এই সাহিত্যিকের সাক্ষাতকারটি নিয়েছিলেন ইসাবেল ভিনসেন্ট, ২০০৭ সালের ২৭ অগাস্ট তারিখে। সাক্ষাতকারটির বাংলা অনুবাদ  প্রকাশ করা হল )
————————————–



ভিনসেন্ট: ১৯৬০ সালে ইংরেজি অনুবাদে “টাইম অব দ্য হিরো” নামে প্রকাশিত আপনার প্রথম বই La Ciudad y los Perros– এর প্রচারণার কাজে সম্প্রতি আপনি লাতিন আমেরিকায়, বিশেষভাবে ব্রাজিলে, ফিরেছেন। ওই বইটি লেখার বৃত্তান্ত বলুন; একইসঙ্গে এটি কীভাবে আপনার পরবর্তী লেখালেখি এবং পরিচয় বিনির্মাণে সাহায্য করেছিলো, সে সম্পর্কেও বলুন।
য়োসা: এ-উপন্যাসটি মূলত পেরুর কলেজিও মিলিটার লেওনসিও প্র্যাডো নামক সামরিক মহাবিদ্যালয়ে কাটানো দিনগুলোর বয়ান। ছেলেবেলায় মা আর নানা-নানী আমাকে আগলে রাখতেন। বাড়ি ছেড়ে মিলিটারি মহাবিদ্যালয়ে ভর্তির সময়েই প্রথমবারের মতো আমার সেই আনন্দঘন অভিজ্ঞতায় ছেদ পড়ে। ছোট্ট ওই বিদ্যায়তনটি ছিলো যেন তৎকালীন সমাজবাস্তবতার সমস্ত হিংসা-বিদ্বেষসমেত গোটা পেরুরই যোগ্য প্রতিনিধি। সামরিক শৃঙ্খলার প্রতি সমর্পিত ধনী-গরীব সকল পর্যায়ের ছাত্রই ভর্তি হতো ওখানে। কিন্তু এ ছিলো আমার জন্য নিতান্তই আনকোরা এক অভিজ্ঞতা, এবং একইসঙ্গে বেদনার। ওই অভিজ্ঞতার গুরুত্ব এই যে, ওই পরিবেশেই আমি প্রথম কর্তৃত্ববাদের সন্ধান পাই যা আমাকে শারীরিকভাবে প্রত্যাখ্যান করে। সাহিত্যচর্চার বালাই থেকে “প্রতিকারের” লক্ষ্যেই বাবা আমাকে ওই সামরিক মহাবিদ্যালয়ে ভর্তি করানোর সিদ্ধান্ত নেন। অথচ ওই অভিজ্ঞতাই আমার প্রথম বই রচনার রসদ জোগায়।

ভিনসেন্ট: কর্তৃত্ববাদের প্রসঙ্গ ঘুরেফিরে আপনার লেখায় আসতে দেখা যায়। টাইম অব দ্য হিরো ছাড়াও, ৩১ বছর যাবৎ ডমিনিকান রিপাবলিক শাসন করা রাফায়েল ত্রুজিল্লো’র শেষ দিনগুলো নিয়ে রচিত, বছর সাতেক আগে প্রকাশিত, দ্য ফিস্ট অব দ্য গোট বইটিতেও এই প্রসঙ্গ এসেছে। গোটা লাতিন আমেরিকাজুড়ে সমগ্রবাদী শাসকদের আধিপত্য থাকলেও, বোধ করি বিগত বছরগুলোতে গণতন্ত্র একটা শক্ত অবস্থান নিয়েছে এ অঞ্চলে।
কিন্তু ১৯৯৮ সালের ভেনিজুয়েলা নির্বাচনে হুগো শ্যাভেজকে নির্বাচিত করার মধ্য দিয়ে লাতিন আমেরিকা কি ফের এক ধাপ পিছিয়ে গেছে? গোটা মহাদেশজুড়ে বিভিন্ন সময়ের নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে চেয়েছেন তিনি; আর্থনীতিক শক্তিতেও তিনি অনেকটা এগিয়ে আছেন– বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম তেল-উৎপাদনকারী শক্তি হিসেবে বছর শেষে ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার নিজের কোষাগারে যুক্ত হয়। এই সময়ে লাতিন আমেরিকায় তাঁর প্রভাব কতোটা? 
য়োসা: কর্তৃত্ববাদ সর্বতোভাবে ঘেন্না করি আমি, তা সে বাম কি ডানপন্থী যাই হোক। চিলির ডানপন্থী স্বৈরশাসক [অগাস্তো] পিনোশে বিষয়ে বলতে যাওয়া সময় নষ্ট ছাড়া আর কিছুই নয়। বিপরীতে, ভেনিজুয়েলার হুগো শ্যাভেজ বাম ঘরানার শক্তিমান স্বৈরশাসকের নাম; ডাইনোসরের মতো। তিনি খুবই বিপজ্জনক, কিন্তু তাঁর প্রত্যাশিত প্রভাব তিনি ফলাতে পারছেন বলে আমার মনে হয় না।
গণমুখী বাম ঘরানার সরকারকে নির্বাচিত করার জন্য পেরু, কলাম্বিয়া এবং মেক্সিকোর নির্বাচন প্রভাবিত করতে চেয়েও তিনি সফল হননি। ব্রাজিলের [লুই ইনাসিও ডা সিলভা] লুলাকেও তিনি প্ররোচিত করতে চেয়েছিলেন। শ্যাভেজ সম্পর্কে অনেক অনেক সুমন্তব্য করলেও, লুলা যা বলেন তা কদাচ করেন। লুলা তাঁর নিজের মতো করে দেশ চালাচ্ছেন, এবং গোটা লাতিন আমেরিকার বাম ঘরানার প্রগতিশীল শক্তি হিসেবে তিনি উদাহরণ স্থাপন করেছেন। লুলার আছে অত্যন্ত শক্তিশালী আর্থনীতিক পলিসি; যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও তাঁর সুসম্পর্ক, যা ঘেন্না করেন শ্যাভেজ। শ্যাভেজের দক্ষিণ আমেরিকা জয়ের উদ্যোগ ব্যর্থ হচ্ছে। বছর দুয়েক আগে বলিভিয়ার নির্বাচনে এভো মোরালেজকে সমর্থন দিয়ে সফল হলেও, অন্যান্য বামপন্থী সরকারগুলো শ্যাভেজের পরিকল্পনা মানছে না। কথায় সায় দিলেও তারা কাজ করছে ভিন্ন। ব্যয় সংযত করে এ-সরকারগুলো মুক্ত-বাজার অর্থনীতির প্রয়োগ ঘটাচ্ছে। এটা নিশ্চয়ই শ্যাভেজের মডেল নয়।
ভিনসেন্ট: কিন্তু জনসাধারণের স্বাধীনতার প্রসঙ্গ যেখানে বিবেচিত, সেখানে শ্যাভেজ মডেল তো ভীতিকর। সম্প্রতি ভেনিজুয়েলায় বিরোধীপক্ষের রেডিও বন্ধ করে দিয়েছিলেন শ্যাভেজ, যার রেশ ধরে অন্তত ত্রিশটি বিজ্ঞাপনমাধ্যমও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কুড়ি বছর আগ পর্যন্ত সামরিক সরকার শাসিত লাতিন আমেরিকার জন্য একে কি আপনি খুব বিপজ্জনক বলে মনে করেন না?
য়োসা: রেডিও সারাকাস টিভি বন্ধের মধ্য দিয়ে নিজের বিরুদ্ধশক্তিকে আরো স্বস্তি দিয়েছেন শ্যাভেজ [বিরুদ্ধপক্ষের আরসিটিভি’র নবায়নও করেননি তিনি]। প্রচারমাধ্যম নিষ্পেষণ তাঁর কৌশলগত ভুলের প্রকৃষ্ট উদাহরণ। বাম ঘরানার শক্তিশালী সমর্থক বিশ্ববিদ্যালয়ও তাঁর এ-সিদ্ধান্তে সমর্থন দেয়নি। এভাবেই তাঁর পলিসির বিরুদ্ধাচরণ গোটা ভেনিজুয়েলায় ছড়িয়ে পড়ছে। প্রচারমাধ্যমও তাঁর বিরুদ্ধে।
এমনকি, গোটা লাতিন আমেরিকার বাম ঘরানার সরকারগুলো স্পষ্ট ভাষায় বলেছে যে, তাঁরা সেন্সরশিপ ঘেন্না করেন, এবং এর প্রতি তাঁদের কোনো সমর্থন নেই। শ্যাভেজের প্রভাব-প্রতিপত্তি ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে।
ভিনসেন্ট: কিন্তু যিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রত্যক্ষ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে প্রেসিডেন্ট জর্জ. ডব্লিউ. বুশকে “শয়তান” বলে সম্বোধন করতে পারেন, এবং যিনি উত্তর কোরিয়ার মতো যুক্তরাষ্ট্রের শত্রু রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুতা করতে পারেন, সেই শ্যাভেজের আঞ্চলিক প্রভাব কি আপনি উপেক্ষা করতে পারেন?
য়োসা: এই বিবর্ণ পরিস্থিতির কথা মানছি আমি। শ্যাভেজের প্রধান সমস্যা তাঁর পেট্রোডলার। নিজের ইচ্ছাপূরণে তিনি অঢেল অর্থ বরাদ্দ দিতে পারেন। তাঁর কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে ভেনিজুয়েলার অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়বে। পেট্রোডলারের শক্তিতে গোটা অঞ্চলে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে তিনি অপরাপর সরকারগুলোকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান। তিনি খুবই বিপজ্জনক একজন মানুষ; আর আরসিটিভি‘র বিষয়টিতে তিনি চরম এক ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
কেবল ডান ঘরানার নয়, কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া গোটা লাতিন আমেরিকার অধিকাংশ বাম ঘরানার সরকারেরও তাঁর প্রতি অভিযোগ রয়েছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, গণতন্ত্রের প্রতি লাতিন আমেরিকার জনগণের বিপুল শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা আছে, তাঁরা বাকস্বাধীনতার মূল্য জানেন।
ভিনসেন্ট: শ্যাভেজের সমর্থনপুষ্ট স্যান্দিনিস্তা নেতা ড্যানিয়েল ওর্তেগা নিকারাগুয়ায় পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। এ-বিষয়ে বলুন।
য়োসা: শ্যাভেজ সম্পর্কে নির্বোধ সব মন্তব্য করলেও, ওর্তেগার কর্মকাণ্ড কিন্তু নির্বোধের মতো নয়। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক তিনি নষ্ট করেননি। তিনি বলেছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে “সম্মানজনক” সম্পর্ক বজায় রাখতে চান তিনি। তাছাড়া, আজ অব্দি তিনি ব্যক্তিগত সম্পত্তি অধিকার সমর্থন দিয়েছেন, চর্চা করছেন আর্থনীতিক সংযম। তাঁর রাষ্ট্রনীতি লক্ষ্য করুন। আমার তো মনে হয় না তিনি শ্যাভেজের নাচের পুতুল। এটা তাঁর বাগ্মিতার ফল। তাঁর বক্তব্য ভীষণ পাগলপারা বটে, কিন্তু কর্মকাণ্ড প্রকৃতই বাস্তবসম্মত।
ভিনসেন্ট: কিউবার অবস্থা সম্পর্কে আপনার মন্তব্য জানতে চাই। কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল ক্যাস্ত্রোর দীর্ঘ-অসুস্থতা এবং সক্রিয় না-থাকার প্রেক্ষিতে কিউবা বিপ্লবের ভবিষ্যত কী? শীর্ষস্থানীয় কিউবান বিপ্লবীদের চিরবিদায়ের প্রেক্ষিতে বিপ্লবী সরকারের দিন ফুরিয়ে আসছে বলে মনে করেন কি ক্যাস্ত্রো? দীর্ঘ-অসুস্থতার পর এইতো বিদায় নিলেন, তাঁর ভাই রাউল ক্যাস্ত্রোর স্ত্রী, বিপ্লবের বরকন্যা, ভিলমা এসপিন। আপনি কি মনে করেন যে এর মধ্য দিয়ে ক্যাস্ত্রো তাঁর বিদায়ের দিন গুনছেন, এবং তাঁর মৃত্যুর পর কিউবান বিপ্লবও মুখ থুবড়ে পড়বে বলে তিনি মনে করছেন?
য়োসা: আমাদের জানা আছে কিউবায় কী ঘটছে। এ-প্রসঙ্গ প্রাগৈতিহাসিক। এ-অঞ্চলের জন্য লজ্জার বিষয় এই যে, এই মানুষটি ক্ষমতায় আছেন গত ৫০ বছর ধরে। প্রচারমাধ্যমে শ্যাভেজকে নিয়ে তাঁকে হাজির হতে হয় এটা প্রমাণ করবার জন্য যে, কিউবান বিপ্লবের মৃত্যু এখনো হয়নি। বাস্তবে আমরা কিন্তু দেখছি কিউবা বিপ্লবের সমাপ্তি। ক্যাস্ত্রোর বিদায়ের সঙ্গে বিপ্লবের রেশও ক্ষীণ হয়ে আসবে, কিন্তু তার চাইতেও গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে কিউবার অবস্থান্তর। ফলে, তাঁর বিদায়ের পর একটি নিপীড়নমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা থেকে গণতন্ত্রে উত্তরণের সম্ভাব্যতা এবং প্রক্রিয়ার উপর গুরুত্বারোপ করা উচিত গোটা বিশ্বের। বিশ্বচিন্তা নিবন্ধ হওয়া জরুরি কিউবান জনগণের ভাগ্যোন্নয়ন আর বিধ্বস্ত আর্থনীতিক কাঠামো থেকে উত্তরণের পথে। ক্যাস্ত্রোর মৃত্যুর পর কিউবার অবস্থান্তর মোকাবিলায় কিউবান জনগণকে আমাদের সহযোগিতা করা জরুরি, বিশ্বশক্তি যেমনটা করেছিলো ফ্র্যাংকো-শাসিত স্পেন আর পিনোশে-শাসিত চিলির জনগণকে। স্বৈরশাসন আর আর্থনীতিক টানাপোড়েন ঢের দেখেছে কিউবান জনগণ। লাতিন আমেরিকার মডেল হিসেবে কিউবাকে আর আমি বিবেচনা করি না। অবশ্য এর আগেও কখনো ছিলো না।
ভিনসেন্ট: আপনি কোন ঘরানার লেখক? একটি বই রচনার সময় আপনি কি পুরোপুরি মজে যান লেখালেখিতে?
য়োসা: নিজের সম্পর্কে মন্তব্য করবার চেয়ে অন্যের লেখালেখি বিচারে আমি বেশি পারঙ্গম। [উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালে হিস্ট্রি অব আ ডিইসাইড শিরোনামে কলাম্বিয়ান লেখক গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের উপর একটি নিবন্ধ রচনা করেন।] তখনই একটি বইয়ের কাজ শেষ হয়েছে বলে আমি মানি, যখন বুঝতে পারি যে আর বেশি কাটাকুটি সম্ভব নয়, কিংবা এবার অন্য কাজে হাত দেয়া দরকার, অন্যথা বইটির হাল আরো বেহাল হবে।
কিন্তু সন্তুষ্টির চূড়া আমি স্পর্শ করিনি আজো। সব সময়ই আমি আমার লেখার মানোন্নয়নের চেষ্টা করি, কিন্তু কদাচ আমি এটিকে নির্ভুল করার ফাঁদে পা দেই। এ আমাকে বিবশ করে দেয়।
ভিনসেন্ট: লেখক হয়েছেন বলে কখনো কি অনুশোচনা হয়? নাকি পেরুর প্রেসিডেন্ট হিসেবে গোটা দেশজুড়ে একজন রাজনীতিবিদের অধিকতর প্রভাব বিস্তারকে বরং আপনি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছেন?
য়োসা: “লেখালেখি জীবনযাপনের একটি ধারা”– ফ্লবার্টের উক্তিটি ধার করতে চাই এ-প্রসঙ্গে। একটা সময়ে আমার জীবনেও এটি সত্য হিসেবে দেখা দিয়েছিলো। লেখালেখি ছাড়া বেঁচে থাকার কথা আমি ভাবতে পারি না এখন। লেখক হিসেবেই আমার জীবন আবর্তিত হয়েছে।
এটা সত্য যে, সাহিত্যের একটা রাজনৈতিক প্রভাব আছে। এটি জনগণকে জীবনের প্রতি আরো সংবেদনশীল এবং প্রকৃত নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে। সাহিত্যের দুনিয়ার বিশুদ্ধাচরণ, সৌন্দর্য, সংবদ্ধতা আর যুক্তিমনস্কতা তাদেরকে বস্তুগত পৃথিবীর অপর্যাপ্ততা সম্পর্কে আরো সচেতন করে তোলে। এর পক্ষে প্রমাণও আছে; লক্ষ্য করবেন, কর্তৃত্ববাদী প্রশাসন সব সময়ই সাহিত্যের উপর সেন্সরশিপ আরোপ করেন, কেননা তাঁরা জানেন যে সুকুমার সাহিত্য-সচেতন মানুষকে প্রভাবিত-প্ররোচিত করা কঠিনতর।
ভিনসেন্ট: এবার আপনার মতোই লাতিন আমেরিকান সাহিত্যের আরেক পরাক্রমশালী লেখক গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ সম্পর্কে জানতে চাই। ১৯৭৬ সালে মেক্সিকোর এক থিয়েটার থেকে তাঁকে ঘুষি মেরে বের করে দেবার আগ পর্যন্ত আপনার সঙ্গে তাঁর উষ্ণ-বন্ধুতা ছিলো। সমসাময়িক সাহিত্যের এমনতর কিংবদন্তী সাংঘর্ষিক ঘটনা নিয়ে আপনাদের দুজনের কেউই মুখ খোলেননি কখনো। গত ত্রিশ বছর এ-বিষয়ে আপনি মুখ না খুললেও, আপনাদের দুজনেরই পুস্তক-বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান [বার্সিলোনার কিংবদন্তী বিপণন-প্রতিষ্ঠান কারমেন ব্যালসেলস] থেকে প্রকাশিত মার্কেজের ওয়ান হান্ড্রেড ইয়ারস অব সলিচ্যুড-এর স্পেন-এবং-লাতিন আমেরিকাজুড়ে প্রচারিতব্য নতুন সংষ্করণের ভূমিকায় মার্কেজের সাহিত্য-বিচারী আপনার রচনার অংশবিশেষ ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন। এর মানে কি এই যে আপনাদের অতীত সুসম্পর্ক ফের প্রতিষ্ঠিত হয়েছে?
য়োসা: এ-প্রসঙ্গে করা কোনো প্রশ্নের উত্তর আমি দেই না।