২৫ অক্টোবর, ২০১০

বিদ্যুত সংকট পরিত্রান চায় মানুষ

ফয়সাল মাহমুদ পল্লব


বিদ্যুত নিয়ে তুঘলকি, তুলকালাম, তেহেলকা ঘটনা ঘটে আসছে দীর্ঘদিন যাবত। অথচ এর প্রতিকার বা উন্নয়ন নিয়ে খুব একটা মাথাব্যাথা নেই দেশের কর্তা ব্যক্তিদের। দেশের সকল মানুষই কমবেশি জানেন এই সমস্যার রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয়। এই সমস্যা সমাধানে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও সমন্বিত উদ্যোগ। যখন যে সরকার রাষ্ট্র ক্ষমতায় বসেছে, বসেই বেমালুম ভূলে গেছে বিদ্যুত ব্যবস্থার স্থায়ী সমাধানের কথা। দেশের সবচেয়ে জরুরি একটি বিষয় মোকাবেলায় খুব বেশি পদক্ষেপ নিয়েছে কোন সরকার এমনটি মনে হয়না। রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য হয়তো কিছু ছোট ছোট পরিকল্পনা হাতে নিয়ে কাজ করেছেন কোন কোন সরকার। কিন্তু এটার একটা স্থায়ী সমাধান বা উত্তরণের সঠিক পথ বাতলে যাননি কেউই।
গরমের শুরুতেই বিদ্যুত বিহীন দিন-রাত কাটাচ্ছে দেশের প্রতিটি মানুষ। গ্রামগুলোর অবস্থা আরো ভয়াবহ। পঞ্চাশ বছর আগের গহীন অন্ধকারে ডুবে থাকা গ্রামের কথা নতুন করে মনে করিয়ে দিচ্ছে বিদ্যুত ব্যবস্থা। দেশের একজন কর্ণধর ব্যক্তি বলেছিলেন শহরে লোডশেডিং বাড়িয়ে দিয়ে গ্রামে বিদ্যুত সরবরাহ ঠিক রাখা হবে। কেন এ কাজটি করা হবে তাও তিনি বলেছিলেন, কৃষিতে সেচ ব্যবস্থা চালু রাখার জন্য। কিন্তু ঘটনা ঘটেছে উল্টো বরং শহরের মানুষদের ফাঁকি দেয়া হয়েছে এ কথার মাধ্যমে। গ্রামে শহরের চেয়েও বেশি লোডশেডিং দেখা দিচ্ছে।
জোড়াতালির মাধ্যমে চেষ্টা চালানো হচ্ছে বিদ্যুত ব্যবস্থার উন্নয়নের, বিদ্যুত রেশনিং এর কথা বলে বিদ্যুত সংকট কটিয়ে ওঠার কথা বল্লেও তাতে কোন ফল হচ্ছে বলে মনে হচ্ছেনা। ইতিপূর্বে ডেলাইট সেভিংয়ের কথা বলে ঘড়ির কাঁটা আগ-পিছ করেও তেমন কোন সুফল মানুষ পায়নি।
এতো সংকটের মাঝেও আরেক দফা বাড়ানো হয়েছে বিদ্যুতের দাম, বসানো হচ্ছে নতুন বিদ্যুতের খুঁটি, দেয়া হচ্ছে নতুন নতুন সংযোগ। নতুন নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুললেও কোন বাধা প্রয়োগ করা হচ্ছে না। অবশ্য বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো বসিয়ে নিয়েছে নিজস্ব বিদ্যুত ব্যবস্থা। শহর কেন্দ্রিক বড় বড় আবাসিক ভবনগুলোতে বসিয়ে নেয়া হয়েছে নিজস্ব জেনারেটর। কৃষিমন্ত্রী ডিজেলে ভর্তুকি দিয়েছেন কৃষকদের উন্নয়নের জন্য এবং উৎপাদন ঠিক রাখার জন্য। কিন্তু কৃষিমন্ত্রী হয়তো জানেন না বেশিরভাগ কৃষক এখন বৈদ্যুতিক পাম্পের উপর নির্ভরশীল, আসলে ভর্তুকির ডিজেল দিয়ে চলছে শহুরে জেনারেটর।
বেশকিছুদিন পূর্বে মালদ্বিপে পানির নিচে অনুষ্ঠিত হয়েছে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক, বিশ্ববাসীকে পরিবেশ সচেতনতা করে তুলতে এ উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। দেশের কর্তা ব্যক্তিদের অনুরোধ করবো বিদ্যুত নিয়ে বৈঠক করার সময় বিদ্যুত বিহীন অবস্থায় একদিন একটি বৈঠক করুন। দেখুন বিদ্যুত বিহীন মানুষগুলি কি পরিমান কষ্ট করছে দিনের পর দিন। বিগত জোট সরকার পুনরায় ক্ষমতায় না আসার আরো একটা বড় কারন এই বিদ্যুত ব্যবস্থা। ওই সরকারের ক্ষমতার শেষের দিকে বিদ্যুত ব্যবস্থায় ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দিয়েছিলো। দেশের বৃহৎ দুটি দলের পরস্পর দোষারোপ করার প্রবণতার মাধ্যমে মানুষকে দমিয়ে রাখা সম্ভব নয়। এখন মানুষ অনেক বেশি সচেতন। সাধারণ মানুষ একটু স্বস্তিতে শান্তিতে বসবাস করতে চায়, আর এই স্বস্তির জন্য, শান্তির জন্য বিদ্যুত অবশ্যই প্রয়োজনীয় বিষয়।