তারেক মাহমুদ
যদি কখনো তোমার মন খারাপ হয়
তাহলে তোমার কোন প্রিয় মানুষের সঙ্গে
কথা বলিয়ো প্রাণ খুলে
যদি সে দূরে থাকে
তবে কথা বলিয়ো টেলিফোনে
টেলিফোনে যদি না হয় তাহলে ই-মেইল-এ
ই-মেইল যদি ব্যর্থ হয়
তবে তার উদ্দেশ্যে চিঠি লিখতে বসিয়ো
এসব কিছু সম্ভব না হলে কথা বলিয়ো মনে মনে
যদি কখনো তোমার মন খারাপ হয়
তাহলে নদীর পাড়ে যেও
নদীর উপড়ে তোমার মুখখানি
তোমারই মুখের প্রতিচ্ছবি দেখিয়ো নদীর বুকে
প্রয়োজনে যতদূর চোখ যায়
বয়ে যাওয়া নদীটির দিকে চেয়ে থাকিয়ো
মন খারাপ হলে যেতে পারো
খোলা ছাদ অথবা খোলা মাঠে
ছাদে অথবা মাঠে দাঁড়িয়ে
উপড়ের দিকে তাকিয়ে দেখে নিও বিশাল আকাশ
মেঘেরা উড়ে যাচ্ছে
সূর্য্য হেলে পড়ছে পশ্চিমে
তার অস্তরাগে শান্ত হয়ে আসছে পৃথিবী
একটি অচেনা পাখির ডাকে হয়তো তুমি চমকে উঠবে
পাখিটির কাছেও তুমি বলতে পারো মন খারাপের কথা
মন খারাপ হলে কখনোই
ফাস্টফুড টাস্টফুডে যেও টেও না
যেও নাকো শপিংমল টলে
কিংবা মানুষের ভীড়ের মধ্যে হারানোরও দরকার নেই
এমন কি দরকার নেই হাওয়া খাওয়ার লোভে রিকশায় চড়বার
মন খারাপ হলে বরং ফিরে যেও শৈশবে
শৈশবের বন্ধুদের মুখগুলো মনে আনবার চেষ্টা করিয়ো
তাদের সঙ্গে কাটানো সোনালী সময়গুলো স্মরণে এনো
তোমার সেই দাদাবাড়ি বা নানাবাড়ি
সেই ছোট্ট নদী
সেই আমবাগান
স্কুল থেকে ফিরবার মুহুর্তগুলো স্মরণে এনো
নিশ্চয়ই তোমার মন ভালো হয়ে যাবে
যদি এসব কোনকিছুতেই তোমার মন ভালো না হয়
যদি তোমার মন আরো বেশি খারাপ থাকে
তবে আমাকে স্মরণে এনো
একজন বোকা প্রেমিক
তোমাকে নিয়ে কবিতা লিখে যাচ্ছে
তোমাকে দেখার আশায়
শত শত বছর দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে ভাস্কর্য হয়ে যাচ্ছে
চোখে মুখে তার কতো কথা
কিন্তু এর বেশি কোনদিনই কিছু বলতে পারেনি
‘কেমন আছো? ভালো আছো? ভালো থেকো। দেখা হবে যাই..’
সেই হাস্যকর প্রেমিককে কখনোই তুমি প্রশ্রয় দাওনি
তার কথার জবাবে তুমি শুধু বলতে ‘আচ্ছা’
তারপর খিলখিল করে হাসতে হাসতে বাড়ি চলে যেতে
আমি জানি ভালো থাকবার এই থেরাপিটি তোমাকে কাজে দেবে
এতোক্ষণে নিশ্চয়ই তোমার মন ভালো হয়ে গেছে
২২.০৫.২০০৯ শান্তিনগর, গভীর রাত।