১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজন করা হয় ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’ শীর্ষক অনুস্ঠান। ওই অনুষ্ঠানটিতে সঙ্গীত পরিবেশনকারীরা সকলেই বুকে আড়াআড়িভাবে হাত রেখে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন। অনুস্ঠানটির আয়োজন করে নেদারল্যান্ড ভিত্তিক গ্রামীন ফোন কোম্পানি টেলিনর। জাতীয় সংগীত পরিবেশনার রীতিকে বিকৃত করার অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। এছাড়াও জাতীয় সঙ্গীত শুরুর আগে পাশ্চাত্যের অপেরা পরিবেশনার ঢঙ্গে সমবেত কণ্ঠে কিছু অপ্রোয়োজনীয় শব্দ উচ্চারণ করেন তারা, যা বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের প্রচলিত রীতিবিরোধী। বেসরকারি মোবাইল অপরাটের প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ফোনের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ও। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব.) তাজুল ইসলাম। অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনার শুরুতে ভিন্ন ধরনের সুর ও দাঁড়ানোর ভঙ্গির বিষয়টি নিয়ে তার মনেও প্রশ্ন জেগেছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি যতদূর জানি, জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের সময় দু’হাত দু’পাশে ঝুলিয়ে রাখতে হয়।’ অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের জন্য দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রায় সব সঙ্গীত শিল্পীকেই আমন্ত্রণ জানানো হয়। সংগীত পরিচালক আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল এতে সংগীত পরিচালনা করেন।
আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল জানান, জাতীয় সঙ্গীতের শুরুতে আমি ‘প্রারম্ভিক সুর’(prelude) আরোপ করেছি। তবে সমর দাসের মূল রেকর্ডে এ সুর নেই। জাতীয় সংগীত পরিবেশনার রীতি প্রসঙ্গে প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কামাল লোহানী বলেন, ‘বুকে হাত দিয়ে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের রীতি আমাদের এখানে নেই। এখন জোর করে কেউ তৈরি করতে চাইলে কী বলার আছে?’এ প্রসঙ্গে সাংস্কৃতিক কর্মী ও নাট্যকার তানভীর আহমেদ সিডনী বলেন, ‘আমাদের দেশে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের ক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে দু’হাত পাশে ঝুলিয়ে রাখতে হয়। স্বাধীনতার পর থেকেই এই রীতি মেনে চলা হচ্ছে।’অনুষ্ঠানে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনায় অংশ নেওয়া বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী সৈয়দ আবদুল হাদী বলেন, ‘আজকে নতুন কিছু হলো। বুকে হাত রেখে জাতীয় সংগীত পরিবেশন বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই করা হয়।’ তিনি বলেন, ‘দৃষ্টিনন্দন যদি না হয়, তবে ভবিষ্যতে হয়তো আর গাওয়া হবে না।’বুকে হাত রেখে জাতীয় সংগীত পরিবেশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আগে থেকে এরকম কিছু আমি জানতে পারিনি। মঞ্চে ওঠার পর জুনিয়র কয়েকজন শিল্পী আমাকে বললো, আজ আমরা এভাবেই গাইবো।’ তবে তিনি বলেন, ‘দেশাত্ববোধক গান গাওয়ার জন্য এ রীতিটি ভালোই হতে পারে।’ (সূত্র: অনলাইন)
