ড্রোনটি সহজেই সুউচ্চ ভবনে প্রবেশ
করতে পারবে এবং কোন স্থানগুলোতে আগুন লেগেছে তা চিহ্নিত করে সঙ্গে সঙ্গে সে
সম্পর্কিত ডেটা অগ্নিনির্বাপক বাহিনীকে জানিয়ে দিতে পারবে। ড্রোনটি ১০০০ হাজার
ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বা ১৮৩২ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রায় এক মিনিটেরও বেশি সময়
সচল থাকতে পারে।
সুউচ্চ ভবনে আগুন লাগলে, ভবন কাঠামোর কারণে দ্রুত
বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে আগুন এবং এ ধরনের আগুন নেভাতে গিয়ে নানাবিধ সমস্যার
সম্মুখীন হন অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা। আর সে জন্যই অগ্নিনির্বাপক কর্মীদের সহযোগিতায়
এগিয়ে এসেছিলেন ‘কোরিয়া অ্যাডভান্সড ইন্সটিটিউট অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’
(কেএআইএসটি)-এর গবেষক দল।
এ প্রসঙ্গে কেএআইএসটি-এর সিভিল অ্যান্ড এনভায়ারমেন্টাল
ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক হিউন মিউং বলেছেন, “শহরে জনসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি
সুউচ্চ ভবন এবং এ ধরনের বিভিন্ন কাঠামো তৈরি হচ্ছে, কিন্তু এই ভবনগুলো
অগ্নিকাণ্ডের শিকার হলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।”
কেএআইএসটি নির্মিত বিশেষ এ ড্রোনটি যে শুধু উড়তে পারে
তা নয়, প্রয়োজনে এটি দেয়াল বেয়েও উঠতে পারে। ড্রোনটি যাতে নিজ কাজ ঠিকমতো করতে
পারে, সেজন্য এতে অ্যাল্টিমিটার, ২ডি লেজার স্ক্যানার এবং ইনার্শিয়া মেজারমেন্ট
ইউনিট (আইএমইউ) ব্যবহার করা হয়েছে। আইএমইউ-এর মাধ্যমে ড্রোনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে
পরিচালিত হতে পারে।
এ ছাড়াও ড্রোনটি যাতে মানুষ এবং ভবনের অভ্যন্তরীন
বিভিন্ন বস্তু চিহ্নিত করতে পারে, সেজন্য এতে থার্মাল-ইমেজিং ক্যামেরা যোগ করেছেন
গবেষকরা। আগুনের তাপ থেকে ড্রোনটিকে রক্ষা করতে এর বাহ্যিক অংশে ‘আরামিড ফাইবার’
ব্যবহার করা হয়েছে। আর ড্রোনটি যাতে নিজ তাপমাত্রা ঠিক রাখতে পারে, সেজন্য এতে
এয়ার বাফার ও থার্মোইলেকট্রিক কুলিং প্রক্রিয়া ইনস্টল করেছেন গবেষকরা।
ইতোমধ্যে ড্রোনটির কার্যক্ষমতা পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে
বলেই জানিয়েছে প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট টেক টাইমস। বিশেষ এ ড্রোনের গবেষণা তহবিল জোগান
দিয়েছে কেএআইএসটি ইনিশিয়েটিভ ফর ডিজাস্টার ও কেএআইএসটি ইন্সটিটিউট।