সব ধরনের ষড়যন্ত্র লংমার্চের মাধ্যমে প্রতিহত করা হবে। তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ-বন্দর-খনিজ সম্পদ রক্ষা জাতীয় কমিটির নেতারা বলেছেন, উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন ও রপ্তানির ব্যাপারে কোনো ধরনের চালবাজি চলবে না।
শনিবার বিকেলে লংমার্চের মহাসমাবেশে বক্তারা এ কথা বলেন। নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমান সরকার ও প্রধান বিরোধী দল এশিয়া এনার্জির সাথে কয়লা উত্তোলনের ব্যাপারে যে চুক্তি করেছিল তা জনস্বার্থবিরোধী। এ চুক্তি বাস্তবায়ন করা হলে পানির স্তর নিচে নেমে যাবে এবং উত্তরাঞ্চল মরুভূমিতে পরিণত হবে। হাজার হাজার একর ফসলি জমি ধ্বংস হয়ে যাবে। জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়ে যাবে, বাস্তুভিটা হারাবে এ অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ। তারা আরো বলেন ২০০৬ সালে যেভাবে ফুলবাড়ীবাসী জীবন দিয়ে বিদেশি কোম্পানির ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করেছিল, তারা আবারও সব ধরনের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবে। সরকার, বিশ্বব্যাংকসহ উত্তরবঙ্গের স্থানীয় সংসদ সদস্যরা এর পক্ষে ওকালতি করছে। লংমার্চ সফল করে তাদের ষড়যন্ত্র রুখতে হবে। এ লংমার্চ সফলের মাধ্যমে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন ও কয়লা রপ্তানি বন্ধ করতে হবে।
বক্তারা বলেন, বর্তমান সরকার বিদেশি কোম্পানির সাথে চুক্তি করে তাদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে চায়। পরিবেশ ধ্বংস করে আমরা উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন করতে দেব না।
সাইফুল ইসলাম জুয়েলের সভাপতিত্বে মহাসমাবেশে বক্তব্য রাখেন তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ-বন্দর-খনিজ সম্পদ রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মো. শহীদুল্লাহ, সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ, কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান খান, বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান ভুঁইয়া, জাতীয় গণফ্রন্টের সমন্বয়ক টিপু বিশ্বাস, জাতীয় কমিটির সদস্য নুর মুহাম্মদ, ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরো সদস্য মাহমুদুল হাসান মানিক, বিমল বিশ্বাস, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জুনায়েত শাকি, কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন, ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, আব্দুল মতিন তালুকদার, কমিটির দিনাজপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক ও সাবেক পৌর চেয়ারম্যান সৈয়দ মোসাদ্দেক হোসেন লাবু, ফুলবাড়ী শাখার সদস্য সচিব আব্দুল মজিদ চৌধুরী, পেট্রোবাংলার সাবেক চেয়ারম্যান বিডি রহমতুল্লাহ, ক্ষেতমজুর সমিতির নাসির, সিপিবির প্রিন্স প্রমুখ।
লংমার্চকে কেন্দ্র করে সমাবেশে কয়েক হাজার লোকের সমাগম হয়।
