আসন্ন ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে বিভিন্ন পরিবহনের অগ্রিম টিকেট বিক্রি নিয়ে হযবরল অবস্থা। শুধু রাজধানী থেকে উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীরা বাসের অগ্রিম টিকেট পাবেন। সায়েদাবাদ ও মহাখালী টার্মিনাল থেকে বাসের অগ্রিম টিকেট বিক্রি না করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতি। বাংলাদেশ বাস ট্রাক ওনার্স এ্যাসোসিয়েশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গাবতলী এলাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী বাসের টিকেট বিক্রি শুরু হয়েছে ২৯ অক্টোবর থেকে। চলবে টিকেট শেষ না হওয়া পর্যন্ত। এদিকে আসন্ন ঈদ উপলৰে সরকারীভাবে ১৬টি বিশেষ ট্রেন ও ২০০টি বাস চলবে বিভিন্ন রুটে। বিআরটিসি ও বাংলাদেশ রেলওয়ে বিশেষ বাস ও ট্রেন সার্ভিস পরিচালনা করবে। সদরঘাট থেকে আগামী ১২ নবেম্বর থেকে ২৫ নবেম্বর পর্যন্ত ১৪ দিন ১০টি রুটে চলবে স্পেশাল লঞ্চ সার্ভিস। এদিকে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন পরিবহনের বাসের টিকেট কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।
পরিবহন সমিতির নেতৃবৃন্দ বলছেন, টিকেট কালোবাজারি প্রতিরোধে সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে অগ্রিম টিকেট বিক্রি হচ্ছে না। এই দুই টার্মিনাল থেকে অগ্রিম টিকেট বিক্রি না করতে রবিবার সংশিস্নষ্ট টার্মিনাল মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ বরাবর চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির নেতৃবৃন্দ। তারা বলছেন, অগ্রিম টিকিট বিক্রি না করার ধারাবাহিকতা এবারও রৰা করা হচ্ছে। এর কারণ একটিই। তা হলো যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও টিকেট কালোবাজারি প্রতিরোধ। এছাড়া এই দুই টার্মিনালে খরমুখো যাত্রীদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে মালিক শ্রমিক সমন্বয়ে বিশেষ কমিটি গঠনেরও সিদ্ধানত্ম চূড়ানত্ম। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উলস্নাহ জনকণ্ঠকে বলেন, রবিবার সায়েদাবাদ ও মহাখালী টার্মিনাল মালিক সমিতি বরাবর ঈদে অগ্রিম বাসের টিকিট বিক্রি না করতে সাকর্ুলার জারি করা হয়েছে। তিনি জানান, গাবতলী টার্মিনাল আমাদের নিয়ন্ত্রণে নয়। তাই উত্তরবঙ্গগামী বাসের অগ্রিম টিকেট ছাড়া না ছাড়ার বিষয়টি আমাদের এখতিয়ারের বাইরে। তবে তারা প্রতিবছর ঈদ উপলৰে অগ্রিম বাসের টিকেট বিক্রি করে আসছে।
১০ দিন আগে থেকে শুরম্ন হয়েছে উত্তরবঙ্গগামী বাসের অগ্রিম টিকেট বিক্রি। সংশিস্নষ্টরা জানিয়েছেন ১৬ নবেম্বর পর্যনত্ম বাসের অগ্রিম টিকেট বিক্রি করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে টিকেট বিক্রি শেষ পর্যায়ে। গাবতলীর কাউন্টারে কাউন্টারে এখন ঘরমুখো মানুষের টিকেট সংগ্রহের প্রতিযোগিতা। দিনাজপুর, রংপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, লালমনিরহাটসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার এখন টিকেট বিক্রির ধুম। রবিবারও সৌদিয়া, এস আলম, এস এ পরিবহন, যাত্রী পরিবহন, ঈগল, শ্যামলী পরিবহনসহ বিভিন্ন বাস কাউন্টারে দেখা গেছে উপচেপড়া মানুষের ভিড়। বাংলাদেশ বাস ট্রাক ওনার্স এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ হানিফ জনকণ্ঠকে বলেন, ২৯ অক্টোবর থেকে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন রম্নটে অগ্রিম বাসের টিকেট দেয়া শুরম্ন হয়েছে। তবে টিকেট বিক্রি বন্ধের নির্দিষ্ট কোন তারিখ চূড়ানত্ম করা হয়নি। যে পর্যনত্ম টিকেট আছে ততৰণ দেয়া হবে।
যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধানত্ম অনুযায়ী আগামী ১১ নবেম্বর থেকে দেয়া হবে বিশেষ ট্রেনের অগ্রিম টিকেট। সকাল নয়টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যনত্ম কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেল স্টেশন থেকে টিকেট সংগ্রহ করা যাবে। বাংলালিংক ও গ্রামীণফোন থেকে এসএমএসের মাধ্যমেও টিকেট কাটা যাবে। তবে এসএমএসের মাধ্যমে এক ব্যক্তি সর্বোচ্চ চারটি টিকেট কাটতে পারবেন। ঈদের আগে ও পরে ছয় দিন চলবে বিশেষ এই ট্রেন সার্ভিস। বিশেষ ট্রেনে প্রতিদিন যেতে পারবেন নয় হাজার যাত্রী। প্রতিটি ট্রেনে বাড়তি বগি যোগ করা হচ্ছে চার/পাঁচটি। বিশেষ ট্রেনে যাত্রীর চাপ বিবেচনা করে বিভিন্ন রম্নটে পরিচালনার কথা জানিয়েছে রেলওয়ে কতর্ৃপৰ। এদিকে ঈদ উপলৰে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কতর্ৃপৰ বিভিন্ন রম্নটে ২০০ বাস পরিচালনা করবে। তবে কবে থেকে বিআরটিসি বাসের অগ্রিম টিকেট বিক্রি করা হবে এ ব্যাপারে সিদ্ধানত্ম হয়নি এখনও। আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে অগ্রিম টিকেট বিক্রির সিদ্ধানত্ম হতে পারে।
বাংলাদেশ অভ্যনত্মরীণ নৌ পরিবহন কতর্ৃপৰ (বিআইডবিস্নউটিএ) সিদ্ধানত্ম অনুযায়ী ১২ নবেম্বর থেকে বিভিন্ন গনত্মব্যে চলবে ঈদের স্পেশাল লঞ্চ সার্ভিস। ১৫০টির বেশি লঞ্চ নামানো হচ্ছে বিশেষ সার্ভিস হিসেবে। এছাড়াও নিযমিত ৮০টি লঞ্চ বিভিন্ন গনত্মব্যে চলবে। সরকারের নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ১০ ভাগ কম নেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে লঞ্চ মালিক সমিতির পৰ থেকে। ঢাকা নদী বন্দর সূত্রে জানা গেছে, লঞ্চের অগ্রিম টিকেট সদরঘাট টার্মিনাল থেকে সংগ্রহ করা যাবে। ঈদ উপলৰে সদরঘাট থেকে বিভিন্ন গনত্মব্যে প্রতিদিন তিন লাখ যাত্রী পরিবহন করা হবে।
যোগাযোগ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের ঈদে যানজট নিরসন ও সিএনজি স্টেশন খোলা রাখার বিষয়ে বেশ কয়েকটি সিদ্ধানত্ম নেয়া হয়েছে। মহাসড়কে যানজট প্রতিরোধে জয়দেবপুর, নয়াহাট, কাঁচপুর, সীতাকুন্ড, আরিচাসহ বেশ কয়েকটি স্পটে রেকার প্রস্তুত রাখা হবে। মহাসড়কে কোন কারণে বাস নষ্ট হয়ে গেলে দ্রম্নত সরানোর জন্য কাজ করবে রেকার টিমের সদস্যরা। এছাড়া চলতি সপ্তাহের মধ্যে ঢাকা ময়মনসিংহসহ ভাঙ্গাচোরা বিভিন্ন সড়ক মেরামতের সিদ্ধানত্ম নেয়া হয়েছে মন্ত্রণালয়ের পৰ থেকে। এছাড়াও যাত্রী সুবিধার্থে সায়েদাবাদ, মহাখালী টার্মিনালের আশপাশে থাকা সকল সিএনজি ও রিফুয়েলিং স্টেশন খোলা রাখার সিদ্ধানত্ম নেয়া হয়েছে। বিদু্যত ও গ্যাস সাশ্রয়ে বর্তমানে বিকাল তিনটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত সিএনজি স্টেশন বন্ধ রাখা হচ্ছে। (সূত্র: ইন্টারনেট)
