২ নভেম্বর, ২০১০

জয়শ্রী সেন

 তারেক মাহমুদ

দূর পাহাড় হতে
পদব্রজে যাত্রা করে ক্লান্ত আমি
রণাঙ্গণ হতে বিতাড়িত এক ব্যর্থ সৈনিক
আশ্রয়ের প্রবল আকাঙ্খায়
যখন আমি পথভোলা এক উদ্ভ্রান্ত যুবক
তখন পথের সন্ধান এনে দিয়েছিলো
পাবনার জয়শ্রী সেন।

চুল তার বৈশাখীর ঝড়ো হাওয়া
চোখ তার দীঘির কালো জল
টোল পড়া মুখে যেনো চন্দ্র খেলা করে
পূর্নিমা রাতের মতো তার হাসি
কপালে গাঢ় লাল টিপ
পড়নে টাঙ্গাইলের শাড়ি
মুক্তোর মতো দাঁত
শ্যামল বরণ তার দেহের রঙ
চঞ্চল হরিণীর মতো তার মন
লতার মতো বেড়ে ওঠা
এক অষ্টাদশী তন্বী।

কানের নিচে ঝুলে পড়েছে
একজোড়া বনফুল নাকে নথ
খোঁপায় বাঁধানো দু’টো টকটকে লাল গোলাপ
লাল পেড়ে শাড়ির নিচে খেলা করে নগ্ন দুটি পা
দু’হাতে অনেকগুলো কাঁচের চুড়ি
রিমঝিম শব্দে
আমাকে মাতিয়ে তোলে এক অপ্রকাশিত তৃপ্তিতে
সহসা ‘তুমি’ বলে বুকে জড়িয়ে নেবার মতো
এক অনুপম কারুকার্যে শোভিত
পাবনার জয়শ্রী সেন

স্রোতস্বিনী নদী যার উপমা
শিমুলের মতো যার অধর
হৈমন্তির মতো যে স্বচ্ছ
বসন্তের মতো যার বিচরন
সরষে ফুলের মতো যার শাড়ির আঁচল
সেই ক্ষণপ্রভাকে আমি দেখেছিলাম
দু’দন্ড অসভ্যের মতো
চোখে চোখ পড়তেই
লজ্জায় মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছিলো সে
আমি প্রথম দেখেছিলাম নারীর লজ্জা
তাকে, যে হলো আমার অচেনা সখি
পাবনার জয়শ্রী সেন

২০.০৫.১৯৯৪
দেবোত্তর, পাবনা