কনোকো-ফিলিপসের সঙ্গে তেল-গ্যাস উত্তোলন চুক্তি না করার দাবিতে পেট্রোবাংলা কার্যালয় অভিমুখে তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির মিছিলটিকে পুলিশ তেজগাঁওয়ে এফডিসির সামনে থামিয়ে দেয়। বেলা ১টা ৪০ মিনিটের দিকে মিছিলটিকে থামিয়ে দেওয়া হয়। সেখানেই কমিটির নেতারা তাদের কালো পতাকা মিছিলের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
এ সময় কমিটির সদস্য সচিব আনু মুহাম্মদ সাংবাদিকদের বলেন, "সরকার দাবি না মানলে পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ঘেরাও এবং সারা দেশ থেকে ঢাকা অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচি দেওয়া হবে। এ ব্যাপারে দু একদিনের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।"
এর আগে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর মুক্তাঙ্গন থেকে কারওয়ান বাজারে পেট্রোবাংলা কার্যালয় অভিমুখে এ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি কাকরাইল, মালিবাগ, মৌচাক হয়ে চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনের (এফডিসি) সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় সেখানে পুলিশ বাধা দেয়।
রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে কমিটির পক্ষ থেকে সরকারের উদ্দেশে বলা হয়, জাতীয় স্বার্থ বিরোধী এ চুক্তি করলে সরকারকে ছাড় দেওয়া হবে না ।
আগামী সপ্তাহে বঙ্গোপসাগরের ১০ ও ১১ নম্বর ব্লকে তেল-গ্যাস উত্তোলনের জন্য সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক এ কোম্পানির চুক্তির প্রক্রিয়া চলছে দাবি করে ওই সংবাদ সম্মেলনে কমিটির আহ্বায়ক শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
সোমবার সকালে মুক্তাঙ্গনে কমিটির নেতাকর্মীরা জড়ো হয়। পরে সেখানে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে কালো পতাকা মিছিল শুরু করে তারা।
সমাবেশে শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, "রপ্তানিমুখী মডেল উৎপাদন-বণ্টন চুক্তি (প্রডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাকট-পিএসসি) ২০০৮ এর আওতায় এ চুক্তি করলে তা দেশের জন্য হবে আত্মঘাতী।"
তিনি বলেন, "এরপরেও সরকার চুক্তি করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে না এলে কঠোর আন্দোলন করা হবে।"
কমিটির সদস্য সচিব আনু মুহাম্মদ বলেন, "গত তত্ত্বাবধায়ক সরকার তড়িঘড়ি করে তেল-গ্যাস লুণ্ঠন ও পাচারের জন্য মডেল পিএসসি ২০০৮ প্রণয়ন করে।"
ওই মডেলের আলোকে আন্তর্জাতিক দরপত্র প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ২০০৮ সালে বঙ্গোপসাগরের ১০ ও ১১ নম্বর ব্লকে তেল-গ্যাস উত্তোলনের জন্য নির্বাচিত হয় কনোকো-ফিলিপস।
বহুজাতিক ওই প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচিত করায় এর বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে জাতীয় কমিটি। তখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার কোনো প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয়নি।
বাংলাদেশের মোট ৫২টি গ্যাস ব্লক রয়েছে। এর মধ্যে ২৮টি বঙ্গোপসাগরে।
তিনি বলেন, "মডেল পিএসসি ২০০৮ এ বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সর্বোচ্চ শতকরা ২০ ভাগ গ্যাস পাবে আর ৮০ ভাগ নির্দিষ্ট দরে আমাদের কেনার অধিকার দেওয়া হবে।"
বাংলাদেশ ওই গ্যাস কিনতে না পারলে কনোকো-ফিলিপস অন্য দেশে তা রপ্তানি করতে পারবে বলে মডেল পিএসসিতে বলা হয়েছে জানিয়ে এই ধরনের শর্তকে 'চাতুরি' বলে মন্তব্য করেন আনু মুহাম্মদ।
তিনি বলেন, "এই গ্যাস আমাদের দেওয়া হবে ১৫০ মাইল দূরে সমুদ্রের কূপ থেকে। সেখান থেকে উপকূলে গ্যাস সরবরাহে বিদেশি কোম্পানির কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। আবার এই গ্যাস সরবরাহ নেওয়ার বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য আর্থিক ও কারিগরি সামর্থ্যরে দিক থেকেও অলাভজনক। ফলে তা রপ্তানির সুযোগই করে দেওয়া হবে।"
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, জাতীয় কমিটির সদস্য নূর মোহাম্মদ, গণসংহতি আন্দোলনের আহ্বায়ক জোনায়েদ সাকী প্রমুখ। (বিডি নিউজ টুয়েনটি ফোর ডটকম)
