৭ নভেম্বর, ২০১০

শাজাহান মিয়াকে জবাই করার জন্য রাজাকারদের নির্দেশ দিয়েছিলেন নিজামী

 নিজামী'র মানবতা বিরোধী কর্মকান্ডের প্রমান মিলেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সদস্যরা তিনদিন পাবনা সফর করে এ সত্যতা খুজে পেয়েছেন। নিজামী দাঁড়িয়ে থেকে একাত্তরে মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান মিয়াকে জবাই করার জন্য রাজাকারদের নির্দেশ দিয়েছিলেন। যুদ্ধ ও মানবতা বিরোধী অপরাধ তদন্তে আসা ট্রাইব্যুনালের কর্মকর্তাদের কাছে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় তিনি এ তথ্য তুলে ধরে জানান, রাজাকারদের হাতে তার সাথে ধরা পড়া ১৯ জন কে জবাই ও গুলি করে হত্যা করা হলেও তিনি সেদিন ভাগ্যক্রমে বেঁচে উঠেন।
সেদিনের মওলানা নিজামীর লোমহর্ষক হত্যাকান্ডের বিবরণ দিতে গিয়ে শাজাহান মিয়া বার বার বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। তিনি জানান, সাঁথিয়ার ধুলাউড়িতে ৭১ এর ২৭ নভেম্বর ভোররাতে ২০ মুক্তিযোদ্ধা রাজাকারদের হাতে আটক হন। এ সময় তাদেরকে ইছামতি নদীর তীরে দাড় করিয়ে রাখার পর মওলানা মতিউর রহমান নিজামী মুক্তিযোদ্ধা শাজাহানসহ অন্যান্যদের জবাই ও গুলি করে হত্যার নির্দেশ দেন। নিজামীর নির্দেশে রাজাকার কমান্ডার আঃ ছাত্তারসহ অন্য রাজাকাররা ২০ জনকে গুলি ও জবাই করে ফেলে যায়। এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা শাহাজান আলী জবাই করা অবস্থায় বেঁচে গেলে সকালে গ্রামবাসী তাকে উদ্ধার করে লেপ সেলাই করা সূঁচ দিয়ে গলা সেলাই করে প্রাণ রক্ষা করেন। মুক্তিযোদ্ধা শাহাজান মিয়া সে থেকে আজও স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারেন না। মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান মিয়া প্রাণে বাঁচলেও তার সাথে ধরা পড়া চাঁদ আলী, খবির উদ্দিন, মকছেদ আলী, আকতার আলমসহ ১৯ মুক্তিযোদ্ধা সেদিন রাজাকারদের হাতে শহীদ হন। এ মুক্তিযোদ্ধা দলের অপর সদস্য খলিলুর রহমান পালিয়ে গাছে উঠে রাজাকারদের এ হত্যাযজ্ঞ প্রত্যক্ষ করেন। এ সময় মওলানা মতিউর রহমান নিজামী রাজাকারদের এ হত্যাযজ্ঞ দাড়িয়ে তদারকি করেছিলেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত দলের কাছে নিজামীর হাত থেকে বেঁচে যাওয়া মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান মিয়া শনিবার ওই দিনের ঘটনার বিবরণ দেন।
এভাবে পাবনা-সাথিয়া-বেড়া-ঈশ্বরদী জুড়ে যুদ্ধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার আজ সময়ের দাবীতে পরিণত হয়ে উঠেছে। একে একে দীর্ঘ হচ্ছে, গণশহীদের তালিকা আর রাজাকারদের নব্য নাম। কারা ছিলেন ৭১’র মুক্তিযুদ্ধে নিজামী সুবহানের দোসর। কারা কোথায় অপরাধ সংঘটিত করেছে এবং কিভাবে করেছে। তার অদ্যপ্রান্ত।তথ্য উপাত্য তুলে দিচ্ছেন শহীদ পরিবারের সদস্যরা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ৭ সদস্যের আসা তদন্ত টিমের কাছে।
ট্রাইব্যুনালের তদন্ত দল ৬ নভেম্বর মওলানা মতিউর রহমান নিজামীর এলাকায় যান। তদন্তদলটি সাঁথিয়ার ধুলাউড়ি ইউনিয়ের বাউশগাড়ী করমজা, পাইকারহাটি বধ্যভূমিসহ সাঁথিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় তৎকালীন রাজাকার ক্যাম্প পরিদর্শন করেন।