২৯ এপ্রিল, ২০১১

আজ রাজপুত্রের বিয়ে

আজ ব্রিটিশ রাজপুত্র উইলিয়ামের জীবনে জীবন সঙ্গী হিসেবে জড়াতে যাচ্ছেন কেট মিডলটন। দীর্ঘ সম্পর্ক, দীর্ঘ অপেক্ষার পালা শেষ হচ্ছে আজ। আজ সেই মধুর ক্ষণ। যার জন্য শুধু কেট আর উইলিয়াম নয় সারা বিশ্ববাসীই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলো। রাজপুত্র উইলিয়াম ও কেট মিডলটন জড়াবেন জীবনের বন্ধনে। গ্রিনিচ মান সময় ১০টা ১০ মিনিটে বিয়ের বর প্রিন্স উইলিয়াম ক্লারেন্স হাউস থেকে ওয়েস্ট মিনিস্টার অ্যাবের উদ্দেশে রওয়ানা হবেন। সঙ্গে থাকবেন প্রিন্স হ্যারি। ১০টা ৪৫ মিনিটে একে একে রাজপরিবারের সদস্যরা পশ্চিমের গেট দিয়ে প্রবেশ করবেন ওয়েস্ট মিনিস্টার অ্যাবেতে। ১০টা ৫১ মিনিটে কনে কেট মিডলটন গোরিং হোটেল থেকে রওয়ানা হবেন ওয়েস্ট মিনিস্টার অ্যাবের উদ্দেশে। কেট পৌঁছার আগে সর্বশেষ অতিথি হিসেবে প্রবেশ করবেন রাণী ও প্রিন্স ফিলিপ। অতিথির স্ব স্ব আসন দেখিয়ে দেয়া এবং কনে পৌঁছামাত্রই তাকে অভিবাদন জ্ঞাপনের দায়িত্ব পালন করবে রাজকীয় দেহরক্ষী বাহিনী। এ রাজকীয় দেহরক্ষী বাহিনী রাণীর সবচে' পুরাতন বাহিনী। যার শুরু হয়েছিল সপ্তম হেনরির সময়ে ১৪৮৫ সালে। কেট মিডলটন সোনালি ঘোড়ার গাড়ির পরিবর্তে রোলস রয়েসে করে বিয়ের অনুষ্ঠানে আসবেন। এ সময় তাঁর বাবা সঙ্গে থাকবেন। তাঁরাই সর্বশেষ অতিথি হিসেবে ওয়েস্ট মিনিস্টার অ্যাবেতে প্রবেশ করবেন। গোরিং হোটেল থেকে বের হয়ে কেট প্রথমে ব্যাকিংহাম প্যালেসে যাবেন।
দুই পাশে পুলিশের কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনির মধ্য দিয়ে পরে কেট মিডলটন পার্লামেন্ট স্কয়ারে যাবেন এবং সেখান থেকে সোজা ওয়েস্ট মিনিস্টার অ্যাবেতে। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা চলবে সোয়া এক ঘণ্টা। ওয়েস্ট মিনিস্টার অ্যাবের ডিন ড. জন হল বিয়ের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন আর ক্যান্টরবারি'র আর্চবিশপ ড. রোওয়ান উইলিয়াম শপথ অনুষ্ঠানে পুরোহিতের দায়িত্ব পালন করবেন। পরে নবদম্পত্তির উদ্দেশে অভিভাষণ তথা ধর্মোপদেশ দেবেন লন্ডনের আর্চবিশপ রিচার্ড চার্টারস। প্রিন্সেস ডায়নার শেষকৃত্যানুষ্ঠানে রিচার্ড পৌরহিত্য করেছিলেন। ১২টা ১৫ মিনিটে প্রিন্স উইলিয়াম ও কেট মিডলটন প্রথমবারের মতো স্বামী ও স্ত্রী হিসেবে ওয়েস্ট মিনিস্টার অ্যাবে ত্যাগ করবেন। এরপর আরোহন করবেন রাজকীয় ঘোড়ার গাড়িতে। ঘোড়ার গাড়ি খোলাও হতে পারে অথবা কাঁচে মোড়ানোও থাকতে পারে। এটা অবশ্য নির্ভর করবে আবহাওয়ার ওপর। এসময় তাদের পেছনে থাকবে আরো ৪টি ঘোড়ার গাড়ি। এতে আরোহী হবেন কেটের বাবা-মাসহ রাজপরিবারের প্রবীণ সদস্যগণ।
সাড়ে ১২টায় তাঁরা ব্যাকিংহাম প্যালেসে পৌয়ছে একান্ত ফটোসেশনে অংশ নেবেন। সেখানে থাকবে ৬৫০ জন আমন্ত্রিত বিশেষ মেহমান। ১টা ২৫ মিনিটে বাইরে অপেক্ষমাণ ৪ লাখ ৫০ হাজার ভক্তের সামনে তাঁরা হাজির হবেন ব্যাকিংহাম প্যালেসের ব্যালকনিতে। এই ব্যালকনিতেই প্রিন্স উইলিয়ামের বাবা-মা চার্লস ও প্রিন্সেস ডায়নাও তাদের বিয়ের সময় ভক্তদের অভিবাদন জানিয়েছিলেন। এখানে উইলিয়াম ও কেট মিডলটন ৪ লক্ষাধিক জনতার সামনে প্রকাশ্যে চুমো খাবেন। রাজ পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত থাকবেন ব্যালকনিতে। এরপর ল্যানচেস্টার, স্পিটফায়ার ও হারিকেন এয়ার ক্র্যাফটের বিশেষ প্রদর্শনী থাকবে। প্রদর্শনীতে ২টি টাইফুন ফাইটার জেট ও ২টি টর্নেডো জেটও থাকবে।
প্রদর্শনী শেষে রাণীর পক্ষ থেকে অতিথিদের পানীয় ও ক্যানাপি দিয়ে আপ্যায়ন করা হবে এবং উইলিয়াস ও কেটের বিয়ের কেকের প্রদর্শনী হবে।
বিকেল ৩টায় উইলিয়াম ও কেট প্রথমবারের মতো বিশ্রামের জন্য সেন্ট জেমসের প্রাসাদে যাবেন। সন্ধ্যা ৭টায় আবার তাঁরা ব্যাকিংহাম প্যালেসে যাবেন ৩ শতাধিক পরিবার ও বন্ধুমহলের অতিথিদের অভ্যর্থনা জানাতে। এরপর তাঁদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সেই মধুর ক্ষণ। ফুলশয্যা বা বাসর। তবে তাঁরা ব্যাকিংহামে না কি নিকটস্থ ক্লারেন্স হাউসে বাসর করবেন উইলিয়াম ও কেট তা এখনো নির্ধারণ করেননি বলে জানিয়েছেন তাঁদের সহযোগীরা। বাসর সেরে পরদিন সকালেই উইলিয়াম ও কেট উড়াল দিবেন মধুচন্দ্রিমা করতে। এক সপ্তাহ'র জন্য।
সিংহাসনে আরোহনের দিক থেকে প্রিন্স উইলিয়াম সারির প্রথমে নয় বলে তাঁদের বিয়ের দিনকে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের মর্যাদা দেয়া হয়নি। তবে অবিশ্বাস্য ঘটনা হল, ৭ হাজার সাংবাদিক উপস্থিত থাকবেন উইলিয়াম ও কেটের বিয়ের সংবাদ কভার করতে। বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে বসানো থাকবে ৬০টি লাইভ ক্যামেরা। এ দিনটিকে বছরের পর বছর স্মরণীয় করে রাখতেই এতসব আয়োজন। তার ওপর রাজকীয় বিয়ে বলে কথা। (সূত্র: অনলাইন)