অধ্যাপক ডঃ হুমায়ুন আজাদ বাংলাদেশের অন্যতম প্রথাবিরোধী ও বহুমাত্রিক লেখক, কবি, ঔপন্যাসিক, ভাষাবিজ্ঞানী, সমালোচক। অধ্যাপক আজাদের জন্ম : ২৮ এপ্রিল ১৯৪৭ সালে বিক্রমপুরের রাড়িখালে এবং মৃত্যু : ১১ই আগষ্ট ২০০৪ সালে জার্মানির মিউনিখে।
ভাষাবিজ্ঞানী হুমায়ুন আজাদ
হুমায়ুন আজাদ যখন ৬০-এর দশকে বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা পড়ছিলেন, তখন ভাষাবিজ্ঞানে চম্স্কি-উদ্ভাবিত
সৃষ্টিশীল রূপান্তরমূলক ব্যাকরণ তত্ত্বটি আলোড়নের সৃষ্টি করেছিল। আজাদই প্রথম এই তত্ত্বের কাঠামোর উপর ভিত্তি করে বাংলা ভাষার গবেষণার একটি অবহেলিত ক্ষেত্র বাক্যতত্ত্ব নিয়ে এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণাকর্ম সম্পাদন করেন ও বাংলা ভাষার গবেষণাকে আধুনিক ভাষাবিজ্ঞানে উত্তরণ ঘটান। আজাদের পিএইচডি অভিসন্দর্ভের নাম ছিল
Pronominalization in Bengali (অর্থাৎ
বাংলা সর্বনামীয়করণ)। পরবর্তীতে এটি একই শিরোনামের ইংরেজি বই আকারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৩ সালে প্রকাশিত হয়। এর পর ১৯৮৪ সালে আজাদ বাংলা বাক্যতত্ত্বের উপর
বাক্যতত্ত্ব নামে একটি বাংলা বই প্রকাশ করেন। একই সালে তিনি
বাঙলা ভাষা শিরোনামে দুই খণ্ডের একটি সঙ্কলন প্রকাশ করেন, যেটিতে বাংলা ভাষার বিভিন্ন ক্ষেত্রের উপর বিগত শতাধিক বছরের বিভিন্ন ভাষাবিদ ও সাহিত্যিকের লেখা গুরুত্বপূর্ণ ভাষাতাত্ত্বিক রচনা স্থান পায়। এই তিনটি গ্রন্থই ছিল তৎকালীন বাংলা ভাষাবিজ্ঞানের ইতিহাসে অভূতপূর্ব ঘটনা। পরবর্তীতে আজাদ তুলনামূলক-ঐতিহাসিক ভাষাবিজ্ঞান ও অর্থবিজ্ঞানের উপর দুইটি সংক্ষিপ্ত প্রাথমিক পাঠ্যপুস্তক লেখেন। ৯০-এর দশকের শেষের দিকে আজাদ বাংলা ভাষার একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যাকরণ রচনার ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে ওঠেন এবং এই ব্যাপারে ব্যক্তিগত পর্যায়ে ব্যাপক পরিকল্পনাও যে তিনি করছিলেন, তাঁর বিভিন্ন উক্তিতে তার প্রমাণ মেলে। তবে দুর্ভাগ্যবশত তিনি তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে যেতে পারেননি।
প্রকাশিত গ্রন্থাবলী
কবিতা
- অলৌকিক ইস্টিমার (১৯৭৩)
- জ্বলো চিতাবাঘ (১৯৮০)
- সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে (১৯৮৫)
- যতোই গভীরে যাই মধু যতোই উপরে যাই নীল (১৯৮৭)
- আমি বেঁচে ছিলাম অন্যদের সময়ে (১৯৯০)
| - হুমায়ুন আজাদের শ্রেষ্ঠ কবিতা (১৯৯৩)
- আধুনিক বাংলা কবিতা (১৯৯৪)
- কাফনে মোড়া অশ্রু বিন্দু (১৯৯৮)
- কাব্য সংগ্রহ (১৯৯৮)
- পেরোনোর কিছু নেই (২০০৪)
|
কথাসাহিত্য
- ছাপ্পান্নো হাজার বর্গমাইল (১৯৯৪)
- সব কিছু ভেঙে পড়ে (১৯৯৫)
- মানুষ হিশেবে আমার অপরাধসমূহ (১৯৯৬)
- যাদুকরের মৃত্যু (১৯৯৬)
- শুভব্রত, তার সম্পর্কিত সুসমাচার (১৯৯৭)
| - রাজনীতিবিদগণ (১৯৯৮)
- কবি অথবা দন্ডিত অপুরুষ (১৯৯৯)
- নিজের সঙ্গে নিজের জীবনের মধু (২০০০)
- ফালি ফালি ক'রে কাটা চাঁদ (২০০১)
- শ্রাবণের বৃষ্টিতে রক্তজবা (২০০২)
| - ১০,০০০, এবং আরো একটি ধর্ষণ (২০০৩)
- একটি খুনের স্বপ্ন (২০০৪)
- পাক সার জমিন সাদ বাদ (২০০৪)
|
সমালোচনা
- শিল্পকলার বিমানবিকীকরণ ও অন্যান্য প্রবন্ধ (১৯৮৮)
- ভাষা-আন্দোলন: সাহিত্যিক পটভূমি (১৯৯০)
- নারী (১৯৯২)
- প্রতিক্রিয়াশীলতার দীর্ঘ ছায়ার নিচে (১৯৯২)
- নিবিড় নীলিমা (১৯৯২)
| - মাতাল তরণী (১৯৯২)
- নরকে অনন্ত ঋতু (১৯৯২)
- জলপাই রঙের অন্ধকার (১৯৯২)
- রবীন্দ্র প্রবন্ধ/রাষ্ট্র ও সমাজচিন্তা (১৯৯৩)
- শামসুর রাহমান/নিঃসঙ্গ শেরপা (১৯৯৩)
| - সীমাবদ্ধতার সূত্র (১৯৯৩)
- আধার ও আধেয় (১৯৯৩)
- আমার অবিশ্বাস (১৯৯৭)
- পার্বত্য চট্টগ্রাম : সবুজ পাহাড়ের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হিংসার ঝরনাধারা (১৯৯৭)
- মহাবিশ্ব (২০০০)
| |
ভাষাবিজ্ঞান
- Pronominalization in Bengali (১৯৮৩)
- বাঙলা ভাষার শত্রুমিত্র (১৯৮৩)
- বাক্যতত্ত্ব (১৯৮৪)
- বাঙলা ভাষা (প্রথম খন্ড) (১৯৮৪)
- বাঙলা ভাষা (দ্বিতীয় খন্ড) (১৯৮৫)
| - তুলনামূলক ও ঐতিহাসিক ভাষাবিজ্ঞান (১৯৮৮)
- অর্থবিজ্ঞান (১৯৯৯)
|
কিশোরসাহিত্য
- লাল নীল দীপাবলি বা বাঙলা সাহিত্যের জীবনী (১৯৭৬)
- ফুলের গন্ধে ঘুম আসেনা (১৯৮৫)
- কতো নদী সরোবর বা বাঙলা ভাষার জীবনী (১৯৮৭)
- আব্বুকে মনে পড়ে (১৯৮৯)
- বুকপকেটে জোনাকিপোকা (১৯৯৩)
| - আমাদের শহরে একদল দেবদূত (১৯৯৬)
- অন্ধকারে গন্ধরাজ (২০০৩)
- Our Beautiful Bangladesh (২০০
|
অন্যান্য
- হুমায়ুন আজাদের প্রবচনগুচ্ছ (১৯৯২)
- সাক্ষাৎকার (১৯৯৪)
- আততায়ীদের সঙ্গে কথোপকথন (১৯৯৫)
- বহুমাত্রিক জ্যোতির্ময় (১৯৯৭)
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রধান কবিতা (১৯৯৭) (তথ্য সূত্র: ইউকিপিডিয়া)