২৩ এপ্রিল, ২০১১

বাপ-ছেলের কথায় মিল খুজে পাওয়া যাচ্ছে না

বাপ-ছেলের কথায় মিল খুজে পাওয়া যাচ্ছে না।  মুফতি ফজলুল হক আমিনী বলছেন, তার ছেলের এই কথিত অপহরণের ১৩টি দিন কেটেছে কোরআন পড়ে। অন্যদিকে মুফতি আমিনীর ছেলে আবুল হাসানাত সাংবাদিকদের জানালেন ১৩ দিনে এক মুহূর্তের জন্যও খোলা হয়নি তার চোখের বাধন। হ্যান্ডকাপ পরিয়ে অন্ধকার ঘরে ফেলে রাখা হয়েছিলো তাকে। আমিনী বললেন, ছেলে রোজা রেখেছেন এই কথিত অপহরণের ১৩দিন। অপর দিকে ছেলে বললেন শুধুমাত্র খাবার সময় অপহরণকারীরা তার হ্যান্ডকাপ খুলে দিতো। ইসলামী আইন বাস্তবায়ন কমিটির আমীর ফজলুল হক আমিনী ও তার ছেলের এরকম অসঙ্গতিপূর্ণ বক্তব্য পাওয়া যায় শুক্রবার সকালে রাজধানীর লালবাগে কমিটির কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে । ওই সংবাদ সম্মেলনে ছেলেকে পাশে বসিয়ে আমিনী বলেন, ‘শেখ হাসিনার নির্দেশেই আমার ছেলেকে গুম করা হয়েছিল, আবার তার নির্দেশেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’ আমিনীর এ বক্তব্যের সঙ্গে ছেলে হাসানাতের বক্তব্যে স্পষ্ট অসঙ্গতি। আবুল হাসানাতের বক্তব্য সত্য হলে আমিনীর বক্তব্য সত্য হিসেবে মেনে নেওয়া কঠিন। আবার আমিনীর বক্তব্য সত্য হলে আবুল হাসানাতের বক্তব্যও সত্য বলে মানা যায় না। কারণ, চোখবাঁধা অবস্থায় অন্ধকার ঘরে কোরআন পড়া যেমন সম্ভব নয়, তেমনি রোজা রাখলে খাবারের জন্য হাত খুলে দেওয়ারও প্রসঙ্গও আসে না। আবার ১৩ দিন টানা চোখবাঁধা রাখার পর একটি মানুষের চেহারায় ক্লান্তি ও অবসাদের স্বাভাবিক যে ছাপ থাকার কথা তার লেশমাত্রও দেখা যায়নি হাসানাতের চোখে মুখে।  গত ১০ এপ্রিল ধোলাইখাল এলাকা থেকে হাসানাত নিখোঁজ হন বলে দাবি করেন আমিনী। এরপর ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশেই ছেলেকে গুম করা হয়েছে’ বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। সরকার পক্ষ থেকে এ অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলা হয়, ‘আমিনী নিজেই তার ছেলেকে গুম করে নাটক সাজিয়েছেন।’ সেই নাটকের পরিসমাপ্তি হলো শুক্রবার । (সূত্র: অনলাইন)