১ মে, ২০১১

শ্রম আইন মানছে না রংপুর ফাউন্ড্রি লিমিটেড

মহান মে দিবস প্রতি বছর ঘটাকরে শ্রমজীবি মানুয়ের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও উন্নততর জীবনযাপনের আশ্বাস  দিয়ে পালিত হলেও বাস্তবে এর কোন সুফল পায়না শ্রমজীবি মানুষরা। ১মে ১৮৮৬ সালে শিকাগো শহরে শ্রমিকরা উপযুক্ত কাজের পরিবেশ, নিরাপত্তা, মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য রাজপথে আন্দোলন গড়ে তোলেন। উক্ত শ্রমিক আন্দেলনে পুলিশের গুলিতে অনেক শ্রৃমিক আহত ও নিহত হয়। সেই সকল শহীদ শ্রমিকদের বাংলাদেশ তথা বিশ্বের সকল শ্রমজীবি মানুষরা আজও স্বশ্রদ্দ্ধাভরে স্বরণ করে। শ্রমজীবি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বিশ্বের মত আমাদের দেশে অনেক মানব অধিকার সংগঠন কাজ করে যাচ্ছে। RFL কর্মরত শ্রমিকরা কাজের উপযুক্ত পরিবেশ,  নিরাপত্তা , মৌলিক অধিকার হতে বঞ্চিত, এ ব্যাপারে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর শ্রমিকদের পাশে এসে  দাঁড়ানো প্রয়োজন। বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর (সংশোধিত) আওতায় ফ্যাক্টারী অ্যাক্ট ১৯৬৫ এ মূলত কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকের নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্যকর কর্ম পরিবেশের অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। RFL তার কারখানার ভিতরে ও পন্যবাহী গাড়িতে বিভিন্ন মানবতার কথা লিখে রাখলেও বাস্তবে মানবতার অনেক নিচে জীবন ধারন করে বেচেঁ আছে ৮০০-৯০০ চুক্তি শ্রমিক। অনেক চুক্তি শ্রমিক দীর্ঘ ১০-১২ বছর ধরে আর.এফ.এল কাজ করলেও তাহাদের স্থায়ী কোন নিয়োগ দেওয়া হয় না। কর্মরত শ্রমিকরা পেটের তাগিদে সামান্যতম মজুরিতে অনেক ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। পুরুষ ও নারী শ্রমিকরা সততা ও নিষ্ঠার সাথে তাদের দায়িত্ব পালন করলেও ন্যায্য মজুরী হতে তাঁরা বঞ্চিত।  RFL টিউবওয়েল ও পানির পাম্প তৈরি করতে যে সব কাচাঁমালের প্রয়োজন হয় তার মধ্যে লাল মাটি, কয়লা ও লোহা উল্লেখ যোগ্য । লালমাটি ও লোহা প্রক্রিয়াজাত করার সময় কর্মরত শ্রমিকরা মাকর্স ও চশমা না পড়ার ফলে নিশ্বাসের সাথে ধুলা বালি, ছাই ও পুরাতন জাহাজের লোহা, তেল-মবিল সংমিশ্রনে নির্গত ঝাঁজালো ধোয়ার গন্ধে যেমন পরিবেশ দুষিত হচ্ছে তেমনি শ্বাসকষ্ট সহ অনেক জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শ্রমিকরা। আক্রান্ত শ্রমিকরা রংপুর মেডিকেলসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে গেলে কর্ত্যবরত ডাক্টার চিকিৎসাপত্র দিয়ে আর.এফ.এলের কাজ বাদ দিয়ে অন্য কাজ করার পরামর্শ দেন। কর্মরত শ্রমিকরা কাজ করতে কখনও দুর্ঘটনার কবলে পরলে আর.এফ.এল প্রাথমিক চিকিৎসা দিলেও পরর্বতীতে তাঁহাদের কোন প্রকার খোঁজ খবর নেওয়া হয় না। RFL কর্মরত শ্রমিকরা ক্লান্তি দুর করার জন্য বিসিকের বিভিন্ন জায়গায় যেমনঃ গাছের নিচে, বর্জ নিষকাশনের ড্রেনের পাশে বিশ্রাম নিতে দেখা যায়। উক্ত শ্রমিকদের স্বাস্থ সম্মত বাথরুম না থাকায় রাস্তার পাশেই যেখানে সেখানে প্রসাব করতে দেখা যায়। দেশের শ্রম আইনে মাকর্স , এ্যাপ্রোন ও চশমা পড়ে কাজ করার কথা থাকলেও বাস্তবে RFLএর শ্রমিকদের ব্যবহার করতে দেখা যায় না এতে বঞ্চিত হচ্ছে তাদের মানবিক অধিকার। RFL এ কর্মরত যে সকল নারী শ্রমিকরা আছে তারা আরোও বেশি অবহেলিত, সামান্যতম মজুরীতে সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে প্রতিষ্ঠানের সুনাম বয়ে আনছে দেশসহ বিশ্ব বাজারেও। নারী শ্রমিকরা প্রতিদিন ০৮ ঘন্টা কাজ করলে জোটে মাত্র ৬০ টাকা এবং ১২ঘন্টা কাজ করলে কপালে জোটে ৯০টাকা, বর্তমান বাজারে ০১ কেজি চাউলের দাম ৪০-৫০ টাকা। RFL পন্যের গুনাগত মান প্রশংসনীয় হলেও , বঞ্চিত করছে কর্মরত শ্রমিকদের মৌলিক অধিকার।  এখানে কর্মরত পুরুষ ও নারী শ্রমিকদের উপযুক্ত কাজের পরিবেশ, নিরাপত্তা, মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য দেশের মানবাধিকার সংগঠন ও মাননীয় শ্রম মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। (ফকির মানিক, বিসিক, রংপুর)